নাটো মহাসচিব জেন্স স্টোল্টেনবার্গ ২১ ডিসেম্বর রোববারের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, চীন যদি তাইওয়ানের ওপর সামরিক অভিযান চালায়, তবে রাশিয়া ইউরোপীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রকে ব্যস্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং এবং মস্কো ইতিমধ্যে কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে, এবং ইন্দো‑প্যাসিফিক অঞ্চলে যে কোনো উত্তেজনা সরাসরি ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে।
সোল্টেনবার্গের মতে, চীন তাইওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে এবং যদি সেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া ইউরোপীয় মঞ্চে তার উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলবে, যাতে ন্যাটোর মনোযোগ ইউরোপের দিকে কেন্দ্রীভূত থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ন্যাটোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি, কারণ মস্কো সম্ভাব্য বড় ক্ষতির জন্য প্রস্তুত।
নাটোর প্রধানের মন্তব্যে রাশিয়ার সামরিক প্রস্তুতি এবং মানবিক ব্যয়ের বিষয়ও উঠে আসে। পুতিন প্রায় ১.১ মিলিয়ন নাগরিককে সামরিক কাজে নিযুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে গত বছর তিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ন্যূনতম অগ্রগতি অর্জন করেছেন—শুরুর সময়ের তুলনায় মাত্র ১% এরও কম দখল পুনরুদ্ধার হয়েছে। এই সীমিত সাফল্য সত্ত্বেও, রাশিয়া পুরো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে পৌঁছালে নাটোর জন্য ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা হেগে পূর্বে গৃহীত চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে সম্ভাব্য সৈন্য প্রেরণের প্রশ্নটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা সৈন্য পাঠাতে ইচ্ছুক হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য ন্যাটোর সম্মিলিত সম্মতি এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীন-রাশিয়া সংযোগের ফলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর উপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দো‑প্যাসিফিকের উত্তেজনা বাড়লে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং কৌশলগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে, ন্যাটোর পূর্ব ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সোয়েডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সামরিক সম্মেলনে নাটোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্য জরুরি প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এই পরিকল্পনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রুত মোবিলাইজেশন ক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।
চীনের সামরিক নীতি এবং তাইওয়ান সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে ন্যাটোর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীনের সামরিক আধিপত্যের লক্ষ্য শুধুমাত্র তাইওয়ান নয়, বরং ইন্দো‑প্যাসিফিকের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করা। তাইওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু করে চীনের যেকোনো পদক্ষেপ নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সাইবার আক্রমণকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
নাটোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে চীনের সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয়, ন্যাটোর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত।
অধিকন্তু, রাশিয়ার সামরিক প্রস্তুতি এবং মানবিক ব্যয়ের বিষয়ে নাটোর সতর্কতা ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের সামরিক পরিকল্পনা এবং মানবিক সম্পদের ব্যবহারকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে ন্যাটোর কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব না ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে কিছু দেশ সৈন্য প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ন্যাটোর সমন্বিত কাঠামোতে এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য সম্মিলিত সমন্বয় এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
সর্বশেষে, নাটোর প্রধানের এই মন্তব্যগুলো ইন্দো‑প্যাসিফিক এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিবেশের জটিলতা তুলে ধরেছে। চীন-রাশিয়া সংযোগের ফলে উভয় অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়বে, এবং ন্যাটোকে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে কূটনৈতিক সংলাপ, সামরিক প্রস্তুতি এবং অর্থনৈতিক সমর্থনকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং দ্রুত মোবিলাইজেশন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ন্যাটো ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



