বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে নিট মুনাফা ৩০৬ কোটি টাকা রেকর্ড করেছে, যা প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর পর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই ফলাফল ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা‑তে চট্টগ্রামে ঘোষিত হয়, যেখানে শিপিং উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হুসেইন উপস্থিত ছিলেন।
বিএসসির মোট আয় প্রায় ৭৯৮ কোটি টাকা, আর মোট ব্যয় ৪১৬ কোটি টাকা রেকর্ড হয়েছে। ব্যয়ের মধ্যে জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও কর্মী খরচ অন্তর্ভুক্ত, আর আয়ের বেশিরভাগ অংশ কন্টেইনার ও বাল্ক ক্যারিয়ার ভাড়া থেকে এসেছে।
বৈঠকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই হার বজায় রাখে। লভ্যাংশের এই ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএসসি অতিরিক্ত তহবিল ব্যবহার করে নতুন জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এ বছর সংস্থা নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৩৬ কোটি টাকায় দুইটি বাল্ক ক্যারিয়ার ক্রয় করেছে, যা প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থায়ন।
ক্রয় করা দুইটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে একটি ইতিমধ্যে বিদেশি চার্টারারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, আর অন্যটি জানুয়ারি মাসে ডেলিভারি গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে। এই জাহাজগুলো কোম্পানির বহরকে শক্তিশালী করে এবং রপ্তানি-আমদানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বাড়াবে।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে আরও তিনটি জাহাজের ক্রয় পরিকল্পনা চালু রয়েছে; একটি বিএসসির নিজস্ব তহবিল থেকে, আর বাকি দুইটি ট্যাঙ্কার সরকারী ঋণ সহায়তায় ন্যূনতম সুদের হারে গৃহীত হবে। ঋণ শর্তের স্বচ্ছতা ও কম সুদের হার জাহাজ প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএসসি আশা প্রকাশ করেছে যে এই তিনটি জাহাজের চুক্তি শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হবে, যা বহরের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সরকার‑থেকে‑সরকারি চুক্তির মাধ্যমে আর চারটি জাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে চীনা আর্থিক সহায়তা মূলধন সরবরাহ করবে।
পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে, ২০২৩-২৪ তে বিএসসির আয় ৫৯৬ কোটি টাকা, নিট মুনাফা ২৪৯ কোটি টাকা ছিল। এই বছর আয় প্রায় ২০০ কোটি টাকার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যদিও কোম্পানি মাত্র পাঁচটি মহাসাগরীয় জাহাজ পরিচালনা করছিল।
সীমিত বহর সত্ত্বেও আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বিএসসির কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলাফল হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে নতুন জাহাজের যোগদানের মাধ্যমে বহরকে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা রপ্তানি-আমদানি সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বিএসসির মুনাফা বৃদ্ধি দেশের শিপিং শিল্পের পুনরুজ্জীবনের সূচক। তবে নতুন জাহাজের ক্রয় ও ঋণ গ্রহণে আর্থিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদের হার ও মুদ্রা পরিবর্তনের প্রভাব নজরে রাখতে হবে।
অন্যদিকে, সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ.কে. আজাদ জানিয়েছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বৃহৎ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারিত হবে। এই উদ্যোগটি মিডিয়া খাতের উন্নয়ন ও নীতি আলোচনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



