লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা পরিষদ ১৮তম সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বড়দিন ও থার্টি‑ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি ব্যবহার এবং রাস্তায় অবরোধ বা ব্লকেডের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা দেশের সর্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২ এর অগ্রগতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ধর্মীয় উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, সরকার জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় শীর্ষে থাকা যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মূল দায়ীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মামলায় কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বললেন।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২, যা ১৩ ডিসেম্বর চালু হয়, তার মাধ্যমে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬,৫৯৮ জন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি, ১৩৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৬২টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টার শেল, গানপাউডার, আতশবাজি এবং বোমা তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বড়দিন ও থার্টি‑ফার্স্ট নাইটের ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে, সরকার নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এতে আতশবাজি ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং রাস্তায় কোনো অবরোধ বা ব্লকেডের অনুমতি না দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ ঐতিহ্যগতভাবে বড়দিনের রাতে আতশবাজি এবং রাস্তায় সাজসজ্জা করা হয়। তবে সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলমান অস্ত্র পুনরুদ্ধার অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অপরিহার্য বলে ব্যাখ্যা করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান এবং এর তীব্রতা বাড়াতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ‑২ চালু করা হয়েছে। এই অভিযান দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করে ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দমনকে ত্বরান্বিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, সরকার বড়দিন ও থার্টি‑ফার্স্ট নাইটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা, রোড ব্লকেডের উপর নিষেধ, এবং চলমান অস্ত্র পুনরুদ্ধার অভিযান একসাথে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। এই নীতি অনুসরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি বাড়বে এবং ধর্মীয় উৎসবের সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
অবশেষে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকার সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রতি শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে।



