22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঢাকা শহরে 'মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ' শিরোনামে প্রতিবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঢাকা শহরে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রতিবাদ

গত সোমবার ঢাকা কারওয়ান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, লেখক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবী একত্রিত হয়ে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার দাবি জানায়।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ প্রধান সংবাদপত্রের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, ধ্বংস, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (NOAB) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এই প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, নাগরিক ও পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিরা, যারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সংবাদপত্রের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও জুলাই বিপ্লবের ওপর আঘাত। এখন শুধু সচেতন হলে চলবে না, অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি না, আমরা এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে আছি। সারাজীবন সংগ্রাম করেছি একটা স্বাধীন‑সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, এই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনো দিন দেখিনি।”

প্রতিবাদ সভায় এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়, যাতে হামলাকারী ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জোরদার করা হয়।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানান, “আমার প্রায় ২৫‑২৬ জন সহকর্মী ছাদে আটকে ছিল, ফায়ার ব্রিগেডকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটার মানে কী? তারা শুধু ভবন পোড়াতে চায়নি, তারা ডেইলি স্টারের কর্মীদের হত্যা করতে চেয়েছিল।”

তিনি বলেন, “মত প্রকাশ তো অনেক দূর হয়ে গেছে, এখন বেঁচে থাকার ব্যাপার এসে গেছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

টিআইবের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রকাঠামোর অভ্যন্তরে ‘মবতন্ত্র’ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রকাঠামোর দায়িত্বে যারা অধিষ্ঠিত, তারা মব ভায়োলেন্সের পেছনের শক্তিকে তাদের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের সকলের, দেশবাসীর দায় এটা প্রতিহত করা, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মূল দায়িত্ব সরকারের।”

ইফতেখারুজ্জামান সরকারের নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রশ্ন তুলেন এবং দাবি করেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তায় সরকার কী করছে, সে প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।”

সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয়া সরকারী নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, “মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া জনগণের আস্থা ক্ষয় করে এবং গণমাধ্যমের কাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।”

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠী সরকারকে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, হুমকি ও আক্রমণের জন্য দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা, এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।

এই প্রতিবাদকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে; ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে সরকারী নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments