সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর নেতারা আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবশৃঙ্খল গঠন করে সরকারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন রোধে অক্ষমতা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মানবশৃঙ্খলটি সংখ্যালঘু ঐক্য ফ্রন্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত নেতারা অপর্যাপ্ত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের অভাবে দেশের বিভিন্ন কোণে ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সংখ্যালঘু ঐক্য ফ্রন্টের যৌথ সমন্বয়কারী মনিন্দ্র কুমার নাথ উল্লেখ করেন, সরকার ডিপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে কোনোভাবে যোগাযোগ করেনি, যিনি ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে হিংসাত্মকভাবে মারধর ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অমানবিক নীতি অনুসরণ করছেন এবং এই অবস্থায় উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তীব্রভাবে করা উচিত।
নাথ এছাড়াও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং এই নির্বাচনকে ‘শূন্য’ বলে চিহ্নিত করা যাবে, কারণ বাস্তবিক জনসাধারণের প্রতিনিধিত্বের কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে, উপদেষ্টার পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুব্রত চৌধুরী জানান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বর্তমানে অতি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বাড়ছে, আর সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ‘নীরব দর্শক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা তুলে ধরেন।
ঐক্য পরিষদের এক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর নিম চন্দা ভৌমিক বলেন, দেশীয় ও বিদেশী বিভাজনমূলক গোষ্ঠী ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে সরকার অনিচ্ছাকৃতভাবে সমর্থন দিচ্ছে, যার ফলে চলমান সহিংসতা আরও তীব্রতর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়া সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়ছে; দৈনিক স্টার, প্রথম আলো, ছায়ানাট ও উদিচি সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলা ঘটেছে, কিন্তু সরকার থেকে কোনো দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এই অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু নেতারা সরকারের নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক সমালোচনা করছেন এবং জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা না করা পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখা সম্ভব নয়।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযোগগুলো তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন, যাতে সরকারকে সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দায়বদ্ধ করা যায়। তারা দাবি করছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নীতি প্রণয়নে মনোযোগ দিতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ।



