চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আজ তেজগাঁওয়ের বাংলাদেশ পোস্ট অফিস পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশের নাগরিকরা নির্বাচন কমিশনের ওপর বিশ্বাস রাখছেন এবং আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটকে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
পরিদর্শনের সময় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ভোটদানযোগ্য পরিবেশ গড়ে উঠেছে এবং ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, আমরা হাল ছাড়িনি, অগ্রসর হচ্ছি।”
সম্প্রতি শারিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রার্থী ও দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রশ্নে সিইসি জানান, বর্তমান সময়ে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা হুমকি নেই এবং ভয় ধীরে ধীরে কমে যাবে। তিনি আরও যোগ করেন, ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা অবস্থা স্বাভাবিকভাবে উন্নত হবে।
ভোটের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আছে কিনা প্রশ্নে তিনি ইতিবাচক উত্তর দিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রয়েছে, অতিরিক্ত পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন নেই।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত বার্তা উল্লেখ করে, সিইসি বললেন, সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একসাথে নির্বাচনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই সমন্বয়কে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
পোস্টাল বিভাগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পোস্ট অফিসের কর্মীরা তাদের দায়িত্বে উত্সাহী এবং দায়িত্বশীল মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করেন।
পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছে। সিইসি জানান, এই সমস্যার সমাধানে দেশীয় ও বিদেশি আইসিটি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধান বিরোধী দলের একজন নেতার মন্তব্যে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে গণতন্ত্রের মৌলিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি সিইসির মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন, তবু তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিইসির এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
প্রতিপক্ষের উদ্বেগের পরেও সিইসি নিশ্চিত করেছেন, ভোটের দিন নাগরিকদের জন্য কোনো বাধা না রেখে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, সিইসির আশ্বাস ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে এবং নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বড় ঘটনা না ঘটলে, ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে।
সর্বশেষে, সিইসি নাসির উদ্দিনের মতে, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের দিনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।



