ব্রিটিশ গায়ক-গীতিকার এড শিয়ারেন সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক রূপান্তর ঘটিয়ে ৩০ পাউন্ড ওজন কমিয়ে পেশী বৃদ্ধি করেছেন। এই পরিবর্তনটি তার পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের ফলে উদ্ভূত হয়েছে। তিনি ২০২০ এবং ২০২২ সালে যথাক্রমে লায়রা ও জুপিটার নামে দুই মেয়ে গৃহীতের পর নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেন।
একটি পুরুষ স্বাস্থ্য ম্যাগাজিনের কভার স্টোরিতে তিনি জানান, পিতৃত্বের প্রথম দুই সপ্তাহে তিনি রাত্রিকালীন এক গ্লাস ওয়াইন পান করছিলেন, কিন্তু শিশুর ঘুমে নাড়ানোর পর তিনি বুঝতে পারেন যে এই অভ্যাস তার শারীরিক অবস্থার জন্য ক্ষতিকর। এরপর থেকে তিনি অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে দেন এবং শারীরিক কার্যকলাপকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে তোলেন।
শিয়ারেনের মতে, ওজন কমাতে এবং পেশী গড়ে তুলতে তিনি নিয়মিত ওজন তোলা, রিফর্মার পিলাটিস এবং দৌড়ের সমন্বয় ব্যবহার করেন। ট্যুর চলাকালেও তিনি ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দেন, ফলে ভ্রমণকালে শারীরিক রুটিন বজায় রাখতে সক্ষম হন। এই পদ্ধতি তাকে কেবল ওজন কমাতে নয়, সামগ্রিক শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
শারীরিক পরিবর্তনের ফলে তিনি মাঝে মাঝে ভয় পেয়েছেন যে দীর্ঘদিনের ভক্তরা তার নতুন রূপে অভ্যস্ত না হতে পারেন। তিনি স্বীকার করেন, “আমি এমন একজন যাকে মানুষ সহজে চেনে, আর এখন আমি পুরুষ স্বাস্থ্য ম্যাগাজিনের কভারে সুদৃশ্য দেহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছি, এটা অদ্ভুত লাগতে পারে।” তবুও তিনি বিশ্বাস করেন যে পিতামাতাদের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়, এবং তার পরিবর্তন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে পূর্বে তিনি পিজ্জা, বিয়ার এবং ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, তবে এখন তিনি এই অভ্যাসগুলোকে সীমিত করে পিতামাতার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন বেছে নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করাই স্বাস্থ্যকর জীবনের মূল চাবিকাঠি।”
এই পরিবর্তনগুলোকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত কভার স্টোরিতে শিয়ারেনের শারীরিক রূপের পাশাপাশি তার পারিবারিক জীবনের পরিবর্তনও তুলে ধরা হয়েছে। তার নতুন রূপ এবং পিতৃত্বের দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় কিভাবে তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যতে নজরে থাকবে।



