ঢাকা শহরের দুইটি প্রধান সংবাদপত্রের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের পর, পুলিশ ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে এবং অতিরিক্ত ৩১ জনকে তদন্তের আওতায় চিহ্নিত করেছে। ঘটনাগুলো গত সপ্তাহে ঘটেছে, যেখানে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার উভয়ের অফিসে অগ্নি ও ধ্বংসাত্মক কাজের নথি পাওয়া যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে দুপুরের দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নাজরুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতারগুলো ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণের পর করা হয়েছে, যা সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে সহায়তা করেছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আক্রমণকারীরা গাড়ি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে অফিসের জানালা ভেঙে ঢুকে, অগ্নি জ্বালিয়ে ক্ষতি করেছে। এই দৃশ্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্ধান শুরু করে।
গ্রেফতারকৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জনকে স্থানীয় থানা থেকে, তিনজনকে কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট থেকে এবং একজনকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) থেকে আটক করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ভূমিকা ও দায়িত্ব অনুসারে কাজটি সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, তদন্তকারীরা আর ৩১ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছে, যাদের নাম ও পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান, এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পরই তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আক্রমণের পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রেরণা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের পুনরাবৃত্তি প্রশ্নের সত্ত্বেও, ডিএমপি কর্মকর্তারা এই বিষয়টি গোপন রাখার কারণ উল্লেখ করেননি।
সন্দেহভাজনদের রাজনৈতিক সংযোগ বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কিনা, তা সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই এই দিকটি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, তদন্ত এখনও চলমান এবং সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ভিডিও, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলাটিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আদালতিক রায় দেওয়া হয়নি; তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং পরবর্তী আদালত শোনানিতে তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তারা জেল বা জামিনে থাকতে পারে।
ডিএমপি এই ধরনের আক্রমণকে গৃহীত অপরাধ হিসেবে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মিডিয়া সংস্থাগুলো এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড ও ক্যামেরা স্থাপন করেছে।
জনসাধারণের মধ্যে এই আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে; তবে এখন পর্যন্ত কোনো বৃহত্তর প্রতিবাদ বা জনসমাবেশের খবর পাওয়া যায়নি। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে, তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও সন্দেহভাজন শনাক্ত করা এবং অপরাধের পেছনের নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আইনি কাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।



