গাজীপুর শহরের পশ্চিম শৈলদুবি এলাকায় গত সন্ধ্যায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গোপন কারখানায় অবৈধভাবে ঘোড়া কাটা ও মাংস প্রক্রিয়াকরণে জড়িত নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ও মেট্রো থানা সহযোগে পরিচালিত অপারেশনে মোট দশটি ঘোড়া কাটা হয়েছে বলে প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়।
কাশিমপুর মেট্রো পুলিশ স্টেশন ও গাজীপুর সাদার উপজেলা পুলিশ একত্রে সন্ধ্যাবেলা গোপন কারখানায় ঢুকে তদন্ত চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন স্থাপনাটি জাহির নামের এক কৃষকের গবাদি পশু খামারের পেছনে অবস্থিত ছিল এবং সেখানে ঘোড়া কাটা ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের কাজ গোপনে চালিয়ে আসা হচ্ছিল।
গ্রেফতারকৃতদের নাম ও বয়স নিম্নরূপ: শাহীনের (৩৫), আলফাজ সরকার (৪৫), সিরাজুল (৬০), করিম (৩৭), তাজরুল (২৯), ফারহাদ (৩২), নাজরুল ইসলাম (৩৫), বিলাল মিয়া (৫২) এবং রায়হান (২৫)। সকলকে “মাংস কাটা” ও “অবৈধ পশু প্রক্রিয়াকরণ” এর অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
গাজীপুর সাদার উপজেলা পশুপালন কর্মকর্তা ড. শাহীহ মিয়া জানান, গৃহীত তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজনরা ঘোড়া কাটা কাজের সময়ই গোপন কারখানায় ধরা পড়ে। এরপর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাশিবুল ইসলাম现场ে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্টের অধীনে মামলাটি শোনান।
মুক্তিপ্রাপ্ত প্রধান কসাই আলফাজ সরকারকে তাশিবুল ইসলাম এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ২০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেন এবং কাটা ঘোড়ার মাংসকে সমগ্রভাবে সমাধিস্থ করার নির্দেশ দেন। আদালত মাংসের অবৈধ বিক্রয় ও ভোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেন।
কাশিমপুর মেট্রো থানার অফিসার ইন চার্জ মোল্লা মোহাম্মদ খালিদ হোসেন হোসেনও জানিয়ে দেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গৃহীত আইনি পদক্ষেপগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে এবং তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বশীলদেরও গ্রেফতার করা হতে পারে।
এই ঘটনা গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘোড়া ও গবাদি পশুর অবৈধ শিকারের ওপর বাড়তি নজরদারির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বে ৩৭টি অসুস্থ ঘোড়া ও সংশ্লিষ্ট মাংস জব্দের ঘটনা ঘটেছিল, যা থেকে জানা যায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পশু কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের পর ঢাকা ও দিল্লি সরকার থেকে পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ মন্তব্য শোনা গিয়েছে। উভয় পক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাটির পটভূমি ও প্রভাব নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে উন্মোচিত করে।
গাজীপুরে গৃহীত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। ভবিষ্যতে আদালতে আনুষ্ঠানিক শুনানির সময় নির্ধারিত হবে, এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের পাশাপাশি অবৈধ পশু শিকারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



