মিয়ামিতে তিন দিনব্যাপী বৈঠকের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি এবং ইউক্রেনের শীর্ষ আলোচক একত্রে জানিয়েছেন যে, আলোচনাগুলি ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হয়েছে, তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির ক্ষেত্রে এখনও বড় কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্টেম উমেরভ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে, মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ ২০ পয়েন্টের পরিকল্পনা, বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি কাঠামো, মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল উভয় দেশের অবস্থানকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত কৌশল গঠন করা, যাতে যুদ্ধের অবসান এবং ইউক্রেনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা যায়। উভয় পক্ষই জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।
উইটকফ ও উমেরভের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের যৌথ অগ্রাধিকার হল প্রাণহানি বন্ধ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইউক্রেনের পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। এই লক্ষ্যগুলোকে অর্জনের জন্য উভয় পক্ষই নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও অর্থনৈতিক সহায়তার কাঠামোকে কেন্দ্রীয় করে কাজ করবে।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি কয়েক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত ২৮ পয়েন্টের মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঐ পরিকল্পনা ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, কারণ তা রাশিয়ার স্বার্থকে কিছুটা সমর্থনকারী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অংশ নেন, যার মধ্যে ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। কুশনারের অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের নীতি সমন্বয়ের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রিভের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলাপ-আলোচনায় উভয় পক্ষই ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত দাবি বজায় রাখতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শান্তি অর্জনের জন্য রাশিয়ার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি চুক্তি গড়ে তোলার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতবিরোধ রয়ে গেছে, বিশেষত রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ইউক্রেনের দিক থেকে রাশিয়ার দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার ও পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশ পুনরায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য রাখে।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজের বৈঠকগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড দখল করার এবং প্রাক্তন সোভিয়েত সাম্রাজ্যের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। ভবিষ্যতে মিয়ামিতে আরও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।
বৈঠকের ফলাফল এখনো স্পষ্ট না হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের যৌথ বিবৃতি থেকে দেখা যায় যে, উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান ও ইউক্রেনের পুনর্গঠনের জন্য দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি ভিত্তি স্থাপন করেছে।



