ঢাকার হাইকোর্ট গ্রামীণফোনের (GP) উপর আরোপিত Significant Market Power (SMP) বিধিগুলোর প্রয়োগকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করার আদেশ দিয়েছে। এর ফলে দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল সেবা প্রদানকারীকে নতুন সেবা ক্যাম্পেইন চালু করার জন্য নিয়ন্ত্রকের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে না, এবং মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক পরিবর্তনকারী গ্রাহকরা স্বল্প সময়ের লক‑ইন শর্ত থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়া, ইন্টার‑অপারেটর কলের প্রতি মিনিটের চার্জ টাকার ০.১০ থেকে বাড়িয়ে পূর্বের ০.০৭ রেট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এই আদেশটি এই মাসের শুরুর দিকে বিচারক ফয়েজ আহমেদ ও বিচারক মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চের মাধ্যমে জারি করা হয়। গ্রামীণফোনের দ্বারা দায়ের করা রিট লিখিত পিটিশনের পর আদালত এই রায় দেয় এবং পোস্ট, টেলিকমিউনিকেশন ও আইটি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)কে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয় যে, কেন SMP সীমাবদ্ধতাগুলো বাতিল করা উচিত নয়।
২০১৮ সালে টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বাজারে একচেটিয়া প্রভাব রোধের জন্য SMP বিধি প্রবর্তন করে এবং গ্রাহক সংখ্যা, রাজস্ব অথবা স্পেকট্রাম হোল্ডিংসের ভিত্তিতে ৪০ শতাংশের থ্রেশহোল্ড নির্ধারণ করে। এক বছর পর, ২০১৯ সালে কমিশন বাজার বিশ্লেষণ করে গ্রামীণফোনকে SMP অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত করে, কারণ কোম্পানির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ও বার্ষিক আয় উভয়ই নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।
SMP কাঠামোর অধীনে গ্রামীণফোনকে মোট ২০টি সম্ভাব্য শর্তের মধ্যে তিনটি শর্ত মেনে চলতে হয়। প্রথমত, প্রতিটি নতুন সেবা ক্যাম্পেইনের জন্য বিটিআরসির পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নেটওয়ার্কে পোর্ট করা গ্রাহকদের জন্য লক‑ইন সময়কাল প্রতিদ্বন্দ্বী অপারেটরদের তুলনায় কম নির্ধারিত ছিল। তৃতীয়ত, ইন্টার‑অপারেটর কলের প্রতি মিনিটের চার্জ টাকার ০.০৭ নির্ধারিত হয়েছিল, যা বাজারে মূল্য পার্থক্য সৃষ্টি করত।
গ্রামীণফোন পাঁচ বছর আগে SMP চিহ্নিতকরণকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, তবে সেই সময়ের আদালতের রায় তার পক্ষে না যায়। এইবারের রিট পিটিশনে কোম্পানি এই চিহ্নিতকরণকে “অযৌক্তিক ও অবৈধ” বলে উল্লেখ করে, যা হাইকোর্টের স্থগিত আদেশের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন যে, কোম্পানি এই বছর বিটিআরসিকে চারটি চিঠি পাঠিয়ে SMP স্ট্যাটাস পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে। তিনি বলেন, এই চিঠিগুলোতে গ্রাহক সেবা উন্নয়ন ও বাজার প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক শর্তগুলোর পুনঃমূল্যায়ন দাবি করা হয়েছে।
অস্থায়ীভাবে এই শর্তগুলো বাতিল হওয়ায় গ্রামীণফোন দ্রুত নতুন প্যাকেজ ও প্রোমোশন চালু করতে পারবে, যা বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র করবে এবং গ্রাহক অধিগ্রহণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, কল চার্জের বৃদ্ধি কোম্পানির ইন্টার‑অপারেটর কল থেকে আয় বাড়াতে পারে, যদিও এটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপারেটরদের জন্য চাপের কারণ হতে পারে।
মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হলে, তারা SMP বিধিগুলো সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করবে। যদি বিধিগুলো পুনরায় কার্যকর করা হয়, গ্রামীণফোনের ওপর নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান অব্যাহত থাকবে; অন্যথায়, কোম্পানি স্বতন্ত্রভাবে সেবা পরিকল্পনা চালু করতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, হাইকোর্টের এই অস্থায়ী স্থগিত আদেশ গ্রামীণফোনকে স্বল্পমেয়াদে নিয়ন্ত্রক বাধা থেকে মুক্তি দেয়, তবে চূড়ান্ত রায় টেলিকম সেক্টরের ভবিষ্যৎ গঠন ও প্রতিযোগিতার দিক নির্ধারণ করবে।



