ফুলহ্যাম মিডফিল্ডার আলেক্স ইওবি, নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (Afcon) কে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আগামী সপ্তাহে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে নাইজেরিয়ার পক্ষে খেলবেন, যেখানে ২৪টি দল মহাদেশীয় খিতাবের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
Afcon প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এবং এইবারের আয়োজক দেশ মরক্কো। টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী দলগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক ম্যাচ খেলবে, এবং নাইজেরিয়া শেষবার ২০২৩ সালে আইভরি কোস্টের হাতে ২-১ স্কোরে হেরে ফাইনালে শেষ করেছিল।
ইওবি টুর্নামেন্টের সাংস্কৃতিক দিককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “Afcon‑এ ফুটবলের মাধ্যমে পুরো আফ্রিকা উদযাপন করা যায়; বিভিন্ন দেশের পোশাক, রীতিনীতি এবং সঙ্গীতের মিশ্রণ দেখা যায়, আর আমরা যখন পরিবর্তনশীল কক্ষের দরজা খুলি, তখন আমাদের নিজস্ব সঙ্গীত বাজিয়ে সংস্কৃতিকে আরও উজ্জ্বল করি।”
নাইজেরিয়া ২০২২‑২৩ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় দুই ধারাবাহিক বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ইওবি এই ব্যর্থতাকে “বড় হতাশা” হিসেবে উল্লেখ করে, তবে একই সঙ্গে তা দলকে নতুন উদ্যমে Afcon‑এ প্রতিযোগিতা করার প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলেছেন।
ইউবির মতে, “আমাদের নিজেদের কাছে দায়িত্ব আছে এই ভুল সংশোধন করার, আর এই টুর্নামেন্ট জয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।” তিনি অতীতের ভুল থেকে শিখে, এইবারের প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয় করার লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
নাইজেরিয়া পূর্বে তিনবার Afcon শিরোপা জিতেছে, সর্বশেষ ২০১৩ সালে। ২০২৩ সালের ফাইনালে আইভরি কোস্টের জয় তাদের স্বপ্নকে “ভেঙে” দিয়েছিল, তবে ইউবির মতে সেই মুহূর্তে স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়েন হ্যালারের পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যিনি ক্যান্সার থেকে সুস্থ হয়ে জয়গান করেছিল।
ইউবির মন্তব্যে তিনি যোগ করেন, “সেই কঠিন পরাজয় সত্ত্বেও, হ্যালার যে গোলটি করেছিল তা সত্যিই প্রশংসনীয়, এবং তার পরাজয় আমাদেরকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।” তিনি বলেন, “এটি আমাদেরকে পুনরায় Afcon‑এ ফিরে আসতে এবং নতুন গল্প গড়ে তুলতে প্রেরণা দিয়েছে।”
আলেক্স ইওবির জন্ম লাগোসে, তবে শৈশবে লন্ডনে চলে যান। তার ফুটবলের প্রতিভা শৈশবেই সনাক্ত হয় এবং তিনি ইংল্যান্ডের অধীনে উন-১৮ স্তর পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানসিক দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান প্রদান করেছে।
বর্তমানে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহ্যামের মিডফিল্ডে খেলে আসছেন এবং নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের জন্য তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তার উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দলকে টুর্নামেন্টে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
Afcon‑এর প্রথম ম্যাচগুলো মরক্কোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, এবং নাইজেরিয়া প্রথম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের অগ্রগতি এবং পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনগুলোতে প্রকাশিত হবে।
ইউবির মতে, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আফ্রিকান ফুটবলের বৈচিত্র্য এবং উত্সাহকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা সম্ভব হবে, এবং নাইজেরিয়া পুনরায় শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে।



