ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরাপত্তা, গনম্যান বা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত ১৫ জন রাজনীতিবিদ এবং প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তা এই ধরনের আবেদন জমা দিয়েছেন।
আবেদনের পেছনে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মূল কারণ রয়েছে। বিশেষত, ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে শারিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা এবং তিনি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর নিরাপত্তা চাহিদা তীব্রতর হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শারিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন ও অনুসন্ধান বাড়ে চলেছে।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গনম্যান এবং বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের আবেদন রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ সেখের জন্যও নিরাপত্তা বা অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে, প্রায় পঁচিশজনের কাছ থেকে অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন পাওয়া গেছে। এই আবেদনগুলো মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় গনম্যান বা গুলি চালানোর অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, আবেদনকারীরা কীভাবে লাইসেন্স পেতে পারে এবং প্রক্রিয়া কী, তা নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সপ্তাহের মধ্যে একটি বৈঠক করে নির্ধারণ করবে কোন আবেদনকারীকে গনম্যান বা অস্ত্র লাইসেন্স প্রদান করা হবে। বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর প্রোফাইল এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বলা হয়েছে, আবেদন সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং সরকার নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিছু বিশ্লেষক নিরাপত্তা চাহিদা বাড়ার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে উল্লেখ করেছেন। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে বলেছে যে, নিরাপত্তা ও অস্ত্র লাইসেন্সের অনুমোদন কেবলমাত্র প্রয়োজনীয়তা এবং আইনগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে হবে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা এতে প্রভাব ফেলবে না।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর পরিচয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আইনগত শর্তাবলী বিবেচনা করে যথাযথ অনুমোদন প্রদান করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা ও অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন বাড়ার ফলে সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেবে।



