19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাইংল্যান্ডের স্কুলে সমাবেশে গানের হার কম, কোয়ারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে

ইংল্যান্ডের স্কুলে সমাবেশে গানের হার কম, কোয়ারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে

ইংল্যান্ডের প্রায় দশ হাজার শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা একসাথে গান গায় না। সরকার উচ্চমানের সঙ্গীত শিক্ষা ও নতুন পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রবণতা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে।

সার্ভে অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের 57% শিক্ষক জানিয়েছেন যে তাদের বিদ্যালয়ে কখনোই সমাবেশে গানের আয়োজন হয় না। তুলনামূলকভাবে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাত্র 13% এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের 4% শিক্ষক একই মত প্রকাশ করেছেন।

কোয়ারের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নে, রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের 36% শিক্ষক জানান যে তাদের স্কুলে কোনো কোয়ার নেই, যেখানে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই হার মাত্র 8%। একাধিক কোয়ারের ব্যবস্থা বেসরকারি বিদ্যালয়ে বেশি দেখা যায়; 77% শিক্ষক জানিয়েছেন যে তাদের স্কুলে একের বেশি কোয়ার রয়েছে, আর রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ে এই হার 27%।

সঙ্গীত শিক্ষকদের সমিতি দাবি করে যে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত একটি কোয়ার থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরে সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে। সমিতি উল্লেখ করে, গত কয়েক বছর ধরে GCSE স্তরে সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ভবিষ্যতে সঙ্গীতশিল্পীর সংখ্যা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সঙ্গীত শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং নতুন পাঠ্যক্রমে সঙ্গীতকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং একাডেমিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা।

ইস্ট ম্যানচেস্টার একাডেমির প্রধান শিক্ষক জ্যাকি বাওয়েনের মতে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময় গাওয়া নিয়ে লজ্জা বা অপ্রাসঙ্গিকতা অনুভব করে। তিনি উল্লেখ করেন, সঙ্গীতকে বিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার হিসেবে ধরে রাখা এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই বাধা দূর করা জরুরি।

বাওয়েনের নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু কার্যক্রম চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক সঙ্গীত হাব, যেখানে শিক্ষার্থীরা রয়্যাল নর্দার্ন কলেজ অফ মিউজিকের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজের সুযোগ পায়। এই হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যন্ত্রের প্রশিক্ষণ এবং গানের কৌশল শিখতে পারে।

সঙ্গীত হাবের পাশাপাশি, বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্ত মঞ্চ প্রদান, গানের প্রতিযোগিতা এবং দলগত সঙ্গীত কর্মশালার আয়োজন করে। এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সঙ্গীতকে দৈনন্দিন শিক্ষার অংশ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ কমে এবং সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, শোনার ক্ষমতা এবং দলগত কাজের দক্ষতা উন্নত হয়, যা একাডেমিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে কোয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সঙ্গীতের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুপারিশ করেন যে, বিদ্যালয়গুলো সমাবেশে নিয়মিত গানের সেশন অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীতের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে।

সারসংক্ষেপে, ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়গুলোতে সমাবেশে গানের সুযোগ সীমিত হলেও, সরকার ও শিক্ষাবিদদের যৌথ প্রচেষ্টায় সঙ্গীতের পুনরুজ্জীবন সম্ভব। কোয়ারের প্রতিষ্ঠা, সাপ্তাহিক সঙ্গীত হাব এবং বিভিন্ন সঙ্গীত কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি লক্ষ্য করা হচ্ছে।

আপনার বিদ্যালয়ে সঙ্গীতকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা যায়? কোয়ার গঠন, নিয়মিত গানের সেশন বা বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে ভাবুন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গীতের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নিন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments