27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমালয়েশিয়ায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ সমাধানের শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠক

মালয়েশিয়ায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ সমাধানের শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠক

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সোমবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা একত্রিত হয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষের সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সংঘর্ষে অন্তত ৪১ জন নিহত এবং প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ৮ই ডিসেম্বর পুনরায় শুরু হওয়া লড়াইয়ের পর প্রথমবারের মতো এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয়ই একে অপরকে দায়ী করে দাবি তুলছে, ফলে শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে।

মালয়েশিয়া, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সংস্থার (ASEAN) চেয়ারmanship পালন করছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে জুলাই মাসে একটি সাময়িক অস্ত্রবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, ফলে নতুন আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

সীমান্তের বিরোধের শিকড় এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো, যখন ফরাসি উপনিবেশিক শাসনের পর কম্বোডিয়ার সীমানা নির্ধারিত হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে এই সীমান্তে বহুবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) লম্বা সীমান্তে আর্টিলারি গুলিবর্ষণ এবং থাইল্যান্ডের বিমান হামলা বাড়ছে।

থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী কম্বোডিয়ার নির্দিষ্ট অবস্থানে বোমা ফেলেছে, যা উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে, যাতে দ্রুত স্থায়ী শান্তি চুক্তি গড়ে তোলা যায়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিম, যিনি জুলাই মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির স্বাক্ষরে অংশ নেন, তিনি কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠককে নিয়ে “সতর্ক আশাবাদী” মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হল সত্য উপস্থাপন করা, তবে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শান্তি নিশ্চিত করা।'” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপন করা জরুরি।

কম্বোডিয়া সরকার এই আলোচনাকে “শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সদ্ভাব বজায় রাখার” লক্ষ্যে চালু করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে সীমান্ত বিরোধের সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে করা উচিত। তারা এই বৈঠককে দুই দেশের প্রতিবেশী সম্পর্ককে পুনর্গঠন করার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বৈঠকের গুরুত্ব স্বীকার করে, তারা শর্তাবলী তুলে ধরেছে। থাইল্যান্ডের দাবি হল, প্রথমে কম্বোডিয়া থেকে স্পষ্টভাবে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা এবং একটি “সত্যিকারের ও টেকসই” অস্ত্রবিরতি নিশ্চিত করা। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনার ফলাফল সীমিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও থাইল্যান্ডের সমকক্ষের সঙ্গে ফোনে কথা বলে, নতুন অস্ত্রবিরতি সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে অর্জিত হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “শীঘ্রই একটি স্থায়ী চুক্তি গড়ে তোলা আমাদের যৌথ লক্ষ্য।”

চীনের এশীয় বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি দেং শিজুনও সাম্প্রতিক সময়ে ফনোম পেনের সফর করেন এবং বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে চীনের ভূমিকা “গঠনমূলক” রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। চীন দীর্ঘদিন থেকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি গড়ে তোলা। পরবর্তী সপ্তাহে কুয়ালালপুরে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

যদি সফল হয়, তবে এই সমঝোতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও মানবিক সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments