রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল, ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, পুলিশ, রাইফেল, গার্ড এবং গৃহ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা দেশের বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থা, সম্ভাব্য হুমকি এবং নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের পূর্বে কোনো অশান্তি বা সহিংসতা না ঘটিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। তারেক রহমানের ফিরে আসা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা তার নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। নিরাপত্তা দপ্তর তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
বছরের শেষের দিকে আসন্ন বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের উদযাপনের জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনাও বৈঠকের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বড়দিনের রাত এবং নববর্ষের আগের দিনগুলোতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি, জনসমাবেশের নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে, বড়দিনের সময় ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে এবং মামলার তদন্তে অগ্রগতি ঘটেছে বলে জানানো হয়। নিরাপত্তা দপ্তর এই মামলাকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে”। তিনি সকল নিরাপত্তা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে এবং নির্বাচনের সময় কোনো অশান্তি না ঘটাতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। এই নির্দেশনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় ও কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এই বৈঠকের ফলাফল এবং প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, নির্বাচন পূর্বে নিরাপত্তা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এই পরিকল্পনা বড়দিন ও নববর্ষের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা এবং চলমান অপরাধমূলক মামলার তদন্তকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।



