অ্যাক্টর অ্যালেক বাল্ডউইন ২০২১ সালের ‘রাস্ট’ ছবির সেটে ঘটিত গুলিবিদ্ধ ঘটনার পর পুনরায় ফৌজদারি অভিযোগ আনা হলে আত্মহত্যার মতন অন্ধকার চিন্তায় ভুগছিলেন বলে প্রকাশ করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক একটি পডকাস্টে এই মানসিক অশান্তি ও পরিবারিক প্রভাবের কথা শেয়ার করেছেন।
২০২১ সালে নিউ মেক্সিকোর একটি চলচ্চিত্র সেটে ক্যামেরাম্যান হ্যালিনা হাচিন্সের গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পর বাল্ডউইনের ওপর দায় আরোপ করা হয়। প্রথমে তিনি অপরাধে অভিযুক্ত হন, পরে অভিযোগ বাতিল হলেও ২০২৪ সালে আবারও একই ঘটনার জন্য অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয় এবং পুনরায় বিচার করা সম্ভব নয়।
বাল্ডউইন জানান, দ্বিতীয়বার অভিযোগ আনা হওয়ার পর তার মানসিক অবস্থা অত্যন্ত অশান্ত হয়ে ওঠে। তিনি আত্মহত্যার মতন অন্ধকার চিন্তায় ডুবে গিয়েছিলেন, যা তার দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
বিশেষ করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বর্ণনা করেন, তার সন্তানরা তাকে কোণায় বসে অচল অবস্থায় দেখছিল, যা তাকে অতিরিক্ত কষ্টের মধ্যে ফেলেছিল।
এই মানসিক চাপের ফলে তিনি এক বছর ধরে প্রতিদিন ঘুমের সময় বাড়িয়ে নিতেন। দৈনন্দিন কাজকর্মের বদলে ঘুমের মধ্যে নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন, যা তার পুনরুদ্ধারের এক অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
বাল্ডউইন উল্লেখ করেন, এই ঘটনার ফলে তার আত্মিক, আর্থিক ও পেশাগত জীবনে বড় ধাক্কা লেগেছে। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার স্বাস্থ্যের ওপর দশ বছর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে।
তাঁর পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বড় সহায়তা ছিলেন তার স্ত্রী হিলারিয়া ও পরিবার। তিনি স্বীকার করেন, পরিবারিক সমর্থন ছাড়া তিনি এই অন্ধকার সময় পার করতে পারতেন না।
বাল্ডউইন আরও বলেন, কখনো কখনো তিনি জীবনের আরেকটি দিন না জাগার ইচ্ছা পোষণ করতেন। এই ধরনের চিন্তা তাকে গভীরভাবে কাঁপিয়ে তুলেছিল, তবে তিনি শেষ পর্যন্ত জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বজায় রাখতে সক্ষম হন।
এই সব কথা তিনি ‘ডপি: অন দ্য ডার্ক কমেডি অফ ড্রাগ অ্যাডিকশন’ শিরোনামের পডকাস্টে শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। পডকাস্টটি তার মানসিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশের মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়।
বাল্ডউইন উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, সহকর্মী ও বন্ধুদের উপর এই ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর। তিনি বলেন, এই কষ্ট তার পুরো স্নায়ুতন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, আর তার ক্যারিয়ার, আর্থিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধাক্কা লেগেছে।
আইনি দিক থেকে, শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয় এবং বাল্ডউইনকে পুনরায় বিচার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের পরও তার মানসিক ক্ষতি সম্পূর্ণরূপে সেরে ওঠা সহজ নয়।
বাল্ডউইন এখনো তার মানসিক স্বাস্থ্যের পুনর্গঠনে কাজ করছেন এবং পরিবারিক সমর্থনকে তার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন। তিনি ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিজের এবং অন্যদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে চান।



