অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আগামী বছর জানুয়ারি প্রথম দিন থেকে ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাসের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবটি আর্থিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদন পাওয়া মাত্রই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠানো হবে। আইআরডি অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে নতুন হার কার্যকর করা হবে।
সঞ্চয়পত্রের বর্তমান সর্বোচ্চ সুদের হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত আছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ভিত্তিতে গড়ে অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাসের কথা বলা হয়েছে, যা মূল হারকে প্রায় ১১.৪৮ থেকে ৯.২২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যাবে। তবে হ্রাসের মাত্রা বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল হবে।
কম পরিমাণে, অর্থাৎ সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার সমান বা কম মূলধনে সঞ্চয় করলে নতুন হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে। অন্যদিকে, একই সীমা অতিক্রম করলে হ্রাসের প্রভাব বেশি হবে এবং সুদের হার কমে যাবে। এই ধারা বিশেষভাবে উচ্চ মূলধন বিনিয়োগকারী ও বড় কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য প্রভাবশালী হতে পারে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, বর্তমানে সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সুদের হার ১১.৯৩ শতাংশ এবং তার উপরে বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ নির্ধারিত। এই হারগুলো জুলাই একের আগে ১২ শতাংশের উপরে ছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাস পেয়েছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার নিচে মূলধনে মেয়াদ শেষে সুদের হার ১১.৯৮ শতাংশ বজায় রয়েছে। উচ্চ মূলধনের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কমে যাবে, যদিও সুনির্দিষ্ট শতাংশ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া সরকারী আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে পুনর্বিবেচনা করা হয়। শেষবারের মতো এই হার সমন্বয় করা হয়েছিল ৩০ জুন, যখন গড় হার কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সমন্বয়ের সময়সীমা ছয় মাস পর নির্ধারিত হয়। সেই সময়সীমা পূরণে ৩১ ডিসেম্বরের দিকে পৌঁছেছে এবং নতুন সমন্বয়ের প্রস্তুতি চলছে।
আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেছেন যে, সুদের হার বাড়বে না কমবে তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং পুরো বিষয়টি অর্থ বিভাগের সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল। সুপারিশ পাওয়া মাত্রই আইআরডি পরিপত্র জারি করে নতুন হার কার্যকর করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, সুদের হারের হ্রাস সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা লক্ষ্যযুক্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য। তবে কম সুদের হার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রদানের খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণমূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বিনিয়োগকারীরা এখনো নতুন হার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে অপেক্ষা করছেন, কারণ হ্রাসের পরিমাণ ও প্রয়োগের শর্তাবলী চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাজারের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে। বিশেষত, উচ্চ মূলধন সঞ্চয়কারী ও পেনশনার গ্রাহকদের জন্য হ্রাসের প্রভাব বেশি হতে পারে, যা তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারী আর্থিক নীতি অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নিয়মিত সমন্বয় করা হয়, যাতে রাজস্ব সংগ্রহ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। নতুন প্রস্তাবের বাস্তবায়ন বাজারে সুদের হার পরিবর্তনের প্রবণতা তৈরি করবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই উপস্থিত করবে।
অবশেষে, সুদের হার হ্রাসের ফলে সঞ্চয়পত্রের রিটার্ন কমে যাওয়া সত্ত্বেও, সরকারী সঞ্চয়পত্রের নিরাপত্তা ও কর সুবিধা এখনও বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে রয়ে যাবে। ভবিষ্যতে আর্থিক বিভাগ থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া মাত্রই বাজারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেখা যাবে।



