গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি (GIC) সম্পর্কে সম্প্রতি সামাজিক মিডিয়া ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্যের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশনের সচিব কুদরত‑এ‑ইলাহীর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি রবিবার প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মিথ্যা তথ্যের উৎস ও উদ্দেশ্য উন্মোচিত করে, পাশাপাশি কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু গোষ্ঠী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব তথ্যের মূল লক্ষ্য হল কমিশনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা এবং জনমতকে প্রভাবিত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন করা।
বিশেষ করে, খন্দকার রাকিব নামের এক ব্যক্তির কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিতি সম্পর্কে যে দাবি প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে কমিশন জোর দিয়ে বলেছে। রাকিব কখনোই গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারিতে কর্মরত ছিলেন না এবং তার কোনো সাক্ষাৎকার বা জিজ্ঞাসাবাদে অংশগ্রহণের রেকর্ড নেই। এই ধরনের অপ্রমাণিত তথ্যের প্রচারকে কমিশন অবৈধ ও দায়িত্বহীন বলে গণ্য করেছে।
কমিশন উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী তার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার ও তাদের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে সম্মান করে, কমিশন তার দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো বাহ্যিক চাপের মুখে তার কাজের মান বজায় রাখবে।
কমিশন আরও জানিয়েছে যে, গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর সমাধানে সময়মতো ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সকল নাগরিককে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, কোনো অপ্রমাণিত তথ্য শেয়ার না করে, সরকারী ঘোষণার ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করবে। এভাবে তথ্যের গুণগত মান বজায় রেখে, গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদান করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। মিথ্যা তথ্যের বিস্তার কেবলমাত্র তদন্তকে ধীর করবে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গুম সংক্রান্ত তথ্যের ভুল উপস্থাপন জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশে সরকারের প্রতি আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।
কমিশন শেষ পর্যন্ত জানিয়েছে যে, সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে এবং যথাসময়ে সঠিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সত্যের আলোতে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



