20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকক্রাস্নোদা অঞ্চলে ইউক্রেইনের ড্রোন আক্রমণে দুই জাহাজ ও দুই জেটি ক্ষতিগ্রস্ত, গ্রামে...

ক্রাস্নোদা অঞ্চলে ইউক্রেইনের ড্রোন আক্রমণে দুই জাহাজ ও দুই জেটি ক্ষতিগ্রস্ত, গ্রামে অগ্নিকাণ্ড

রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী ক্রাস্নোদা অঞ্চলে সোমবার ইউক্রেইনের ড্রোনের আক্রমণে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং দুইটি ছোট জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ভোলনা নামের একটি গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১,৫০০ বর্গমিটার এলাকা জ্বলে উঠেছে। রাশিয়ার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রমণের ফলে জাহাজের সব ক্রু নিরাপদে ত্যাগ করা হয়েছে।

ভোলনা টার্মিনাল, যা রাশিয়ার কৌশলগত জ্বালানি রপ্তানি ও লজিস্টিক হাব, সেখানে নোঙর করা দুইটি জাহাজ ড্রোনের সরাসরি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টার্মিনালের কর্মীরা দ্রুত জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করে ক্রুদের নিরাপদে নৌবহরে স্থানান্তর করেছে এবং কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো বর্তমানে মেরামতের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

ড্রোনের আক্রমণের পর ভোলনা এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রায় ১,৫০০ বর্গমিটার জায়গা জ্বলে। আগুন সকাল ৭ টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি এবং স্থানীয় ফায়ার ফোর্সের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে। শেষ আপডেট অনুযায়ী, অগ্নি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।

ভোলনা টার্মিনাল ক্রাইমিয়া সেতুর নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যা রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডকে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত করে। সেতুটি রাশিয়ার সামরিক সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে কাজ করে এবং জ্বালানি, তেল ও অন্যান্য সামগ্রী রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য অপরিহার্য। এই অঞ্চলে কোনো অস্থায়ী বিঘ্ন রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও সামরিক লজিস্টিকসের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। এখানে অবস্থিত পোর্ট ও টার্মিনালগুলো ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে, এই জলপথ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক রুট, যেখানে সরবরাহ জাহাজ ও বিমান ঘাঁটি অবস্থিত। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

উক্রেইন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রাস্নোদা অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে আসছে। পূর্বে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো, বন্দর ও বিমান ঘাঁটি উল্লেখ করা হয়েছে। এই আক্রমণগুলো রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য বহন করে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আক্রমণকে “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” বলে নিন্দা করে এবং উক্তি দেয় যে রাশিয়া এই ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উক্রেইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে জানিয়েছে যে ড্রোন আক্রমণ রাশিয়ার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে তার সামরিক ক্ষমতা হ্রাসের প্রচেষ্টা। ন্যাটো শীর্ষদলও রাশিয়ার বাণিজ্যিক শিপিংয়ে হুমকি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনার ফলে কৃষ্ণ সাগরে শিপিং রুটে অস্থায়ী সতর্কতা জোরদার হতে পারে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ অনুসরণ করতে বাধ্য করা হতে পারে। একই সঙ্গে, রাশিয়া সম্ভবত ভোলনা টার্মিনালের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি ও বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার দিকে নিবদ্ধ থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, ড্রোন আক্রমণ রাশিয়ার কৌশলগত জ্বালানি রপ্তানি নেটওয়ার্কে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। রাশিয়া এখন এই হুমকির মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, আর উক্রেইন তার সামরিক চাপ বজায় রাখতে ড্রোন ব্যবহার চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘাতের পরিণতি কী হবে তা আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে থাকবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments