ঢাকা শহরে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা শারিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা শাহবাগে একত্রিত হন এবং সেখান থেকে কিছুজন কারওয়ান বাজারে গিয়ে প্রথমে প্রথম আলো, পরে ডেইলি স্টারের ভবনগুলোতে আক্রমণ চালায়। ভাঙচুরের পর লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে দুইটি প্রধান সংবাদমাধ্যমের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আক্রমণকারী দলটি রাত ১১ টার দিকে কারওয়ান বাজার থেকে ধীরে ধীরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ও শায়ানত ভবনে প্রবেশ করে। শায়ানত ভবনে তারা সাংস্কৃতিক সরঞ্জাম চুরি করে এবং ভবনটি অগ্নিকাণ্ডে জ্বালিয়ে দেয়। পরের দিন সন্ধ্যায় একই গোষ্ঠী তোপখানা রোডে অবস্থিত উদীচি সংগঠনের ঢাকা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করে।
শায়ানত ভবনের ওপর গৃহীত আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজানা নামের তিনশো অধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য সিসি টেপ রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে। মধ্যবর্তী সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী উল্লেখ করেন, সিসি ফুটেজের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শায়ানত ভবনের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী ডয়চে ভেলেকেও জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্বে অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরি হওয়ায় ভবনটি আগুনে জ্বালানো সম্ভব হয়নি, তবে তা সত্ত্বেও ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ময়মনসিংহে একটি হিন্দু যুবকের ওপরও হিংসাত্মক আক্রমণ ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, যুবককে পিটিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অগ্নিকাণ্ডে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের একটি বাড়িতে, যেখানে একজন বিএনপি নেতার পরিবার বাস করত, দরজা বন্ধ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে ৭ বছর বয়সী মেয়েটি প্রাণ হারায়।
এই ঘটনাগুলোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে। বহু নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতে, অপরাধের পর বা পরে পুলিশ দেরি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় অমনোযোগী হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, অপরাধীদের গ্রেপ্তারেও ধীরগতি দেখা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কতজন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
অধিক তদন্তের জন্য সরকার সিসি রেকর্ড, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই ধারাবাহিক হিংসা ও ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মিডিয়া সংস্থা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন পদক্ষেপের দাবি করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ঘটিত আক্রমণ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানে হিংসা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী প্রতিক্রিয়া না পেলে, জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং সামাজিক অশান্তি বাড়তে পারে।



