ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় গোমা শহরে রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক দখলে বহু নাগরিক অঙ্গহীন হয়ে আহত হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী ডেভিড মুহিরের ডান হাত ও ডান পা বিস্ফোরণে হারিয়ে যায়, আর তার সঙ্গে থাকা একজন কৃষক প্রাণ হারায়। এই ঘটনা ঘটেছে যখন এম২৩ প্রায় এক বছর আগে গোমা শহর দখল করে একই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
এম২৩, যা পূর্ব কঙ্গোর একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত এবং সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত, ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার পর থেকে অঞ্চলে অশান্তি বজায় রাখছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চল অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত পারের সহিংসতায় জর্জরিত, এবং এম২৩ের কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি রুয়ান্ডা সমর্থন।
বছরের শুরুতে এম২৩ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী দখলের লক্ষ্যে ঝটিকা অভিযান চালায়, যার ফলে কঙ্গোলিজ সশস্ত্র বাহিনী ও এম২৩ যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এই লড়াই গোমা ও বুকাভু শহরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাজারো মানুষ নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত গোমা ও বুকাভু উভয়ই এম২৩ের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) গোমার শিরিকা লা উমোজা কেন্দ্রে অঙ্গচ্ছেদপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা প্রদান করে। ২০২৪ সালে আইসিআরসি জানায় যে, সামগ্রিকভাবে ৮০০ের বেশি ব্যক্তি অস্ত্র, মাইন বা অবিস্ফোরিত গোলার আঘাতে আহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪০০ের বেশি রোগী শিরিকা লা উমোজা কেন্দ্রে ভর্তি। ডেভিড মুহিরের মতো রোগীরা কৃত্রিম অঙ্গপ্রতিস্থাপন পেতে আশাবাদী, এবং কেন্দ্রে রোগীদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রুয়ান্ডা ও ডিআর কঙ্গোর নেতাদের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গোমা ও উভিরার আশেপাশে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পরই এম২৩ নতুন আক্রমণ চালিয়ে উভিরা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করে, যা বুরুন্ডির সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্বকে বাড়িয়ে তুলেছে। এই পুনরায় শুরু হওয়া আক্রমণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা যদিও ঐতিহাসিকভাবে কঙ্গোর সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তবে এম২৩ের রুয়ান্ডা সমর্থন এবং অঞ্চলের জটিল জাতিগত গঠন শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, যদি এই ধরণের আক্রমণ বন্ধ না হয়, তবে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশনের পুনর্বিবেচনা এবং অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
আসন্ন মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গোমা ও উভিরার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, এবং ডিআর কঙ্গোর সরকারকে এম২৩ের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে চাপ দেবে। একই সঙ্গে, আইসিআরসি ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা অঙ্গপ্রতিস্থাপন ও পুনর্বাসন সেবা বাড়াতে পরিকল্পনা করেছে, যাতে আহতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ত্বরান্বিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, গোমা শহরে সংঘটিত অঙ্গহীনতার ঘটনা মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে এবং অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা এবং সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধানই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।



