কুয়ালালামপুরের হাই কোর্ট সোমবার নাজিব রজাকের বাড়িতে শাস্তি সম্পন্ন করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। ২০২২ সালের আগস্টে ১MDB দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবন্দি হওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, শাসনকালীন রায়ের ভিত্তিতে বাড়িতে বন্দিত্বের অনুমতি চেয়েছিলেন, তবে আদালত রাজার আদেশকে অবৈধ বলে খারিজ করেছে।
নাজিব রজাকের কারাবাসের মূল কারণ ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ১এমডিব তহবিলের অপব্যবহার। এই মামলায় তিনি বহু আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ২০২২ সালের আগস্টে ১২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তার শাস্তি শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন আইনি পদ্ধতির মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে শাস্তি হ্রাসের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজার কাছ থেকে ২০২২ সালে একটি রয়্যাল প্যারোল আদেশ পাওয়ার দাবি করেন, যা তাকে বাড়িতে শাস্তি সম্পন্ন করার অনুমতি দেবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আদালতে এই আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে, তা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার আবেদন করেন।
রয়্যাল প্যারোল আদেশটি, নাজিবের মতে, তখনকার রাজা দ্বারা প্রদত্ত দয়ার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে আদালত জানায়, এমন কোনো আদেশের জন্য দেশের প্যারোল বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন, যা রাজার একতরফা সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছে। এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে আদেশটি বৈধতা পায়নি।
হাই কোর্টের বিচারক অ্যালিস লোকে উল্লেখ করেন, রাজার আদেশের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তবে তা গৃহীত প্রক্রিয়া দেশের আইন অনুযায়ী না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্যারোল বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া রাজার একক সিদ্ধান্তে বাড়িতে বন্দিত্বের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
আদালতের এই রায় নাজিবের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা, কারণ তিনি শীঘ্রই ১এমডিব স্ক্যান্ডালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রায়ালের মুখোমুখি হবেন। একই সপ্তাহের শুক্রবার আরেকটি আদালত তার মামলায় চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা।
নাজিব রজাক সব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, ১এমডিব লেনদেনগুলোতে তার কোনো সরাসরি জড়িততা নেই এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এই মামলাটি চালু করেছে। তবে আদালত তার পূর্বের দোষী সাব্যস্তের ভিত্তিতে শাস্তি কার্যকর করছে।
এই রায়ের ফলে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। নাজিবের সমর্থকরা রাজার আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করছেন, আর বিরোধীরা নাজিবের আইনি কৌশলকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাধা হিসেবে দেখছেন।
মালয়েশিয়ার বিচারিক ব্যবস্থা এবং রাজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছে। রাজার আদেশের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের ফলে ভবিষ্যতে রাজার ক্ষমতা ও প্যারোল বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন নীতি প্রণয়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিভাগ আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাজিবের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, তবে আপিল প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, নাজিবের ১এমডিব মামলায় শুক্রবারের রায়ের পর ফলাফল নির্ধারিত হবে। যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে শাস্তি কার্যকর হবে এবং বাড়িতে বন্দিত্বের আবেদন আর গ্রহণযোগ্য হবে না। অন্যদিকে, যদি রায়ে কোনো হ্রাস বা পরিবর্তন আসে, তবে তা রাজনৈতিক ও আইনি উভয় ক্ষেত্রেই বিশাল প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, কুয়ালালামপুরের হাই কোর্টের রায় নাজিব রজাকের বাড়িতে শাস্তি সম্পন্ন করার অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ রাজার আদেশটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। এই সিদ্ধান্ত নাজিবের আইনি লড়াইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন আলোচনার সূচনা করবে।



