আস্টন ভিলা রবিবার বিকেলে ভিলা পার্কে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে পৌঁছেছে। ইংরেজ মিডফিল্ডার মরগান রজার্স ৫৭তম মিনিটে গোল করে দলকে জয় এনে দেয়, আর কোচ উনাই এমেরি আনন্দে জ্যাকেট ছুঁড়ে উড়িয়ে দিলেন।
রজার্সের দ্বিতীয় শটের পরে এমেরি উল্লাসে চিৎকার করে, জ্যাকেট খুলে বাতাসে ছুঁড়ে দিলেন, যা তার আবেগের প্রকাশ হিসেবে নজরে এলো। সাধারণত শান্ত স্বভাবের কোচ এমেরি এই মুহূর্তে তার উচ্ছ্বাসকে দমিয়ে রাখতে পারেননি।
ভিলার বর্তমান অবস্থান তৃতীয়, শীর্ষের আরসেনাল থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে এবং সেকেন্ডের ম্যানচেস্টার সিটি থেকে এক পয়েন্টের পার্থক্যে রয়েছে। দলটি এই মৌসুমে মোট দশটি ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে, যা সব প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এমেরি পূর্বে দলকে শিরোপা দৌড়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করলেও, তার কথায় স্পষ্ট যে আরসেনাল ও সিটির মতো অভিজ্ঞ ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো বাস্তব নয়। তিনি বলেছিলেন, “আমরা শিরোপা দৌড়ে নেই। অবশ্যই আমরা আরসেনাল ও সিটি দুজনকেই বাড়িতে হারিয়েছি, তবে তাদের ট্যাকটিক্যাল শক্তি ও উচ্চমানের খেলোয়াড়রা আমাদের থেকে অনেক বেশি। আমরা তেমন নয়।”
এমেরির এই মন্তব্যের পরেও ভিলার জয়ধারা অব্যাহত রয়েছে। ক্লাবটি ১৯১৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ দশটি ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে, যখন ১৯১৪ সালে তারা একাদশটি জয় ধারাবাহিকভাবে পেয়েছিল। এছাড়া, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রাহাম টেলরের অধীনে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর থেকে প্রথমবারের মতো টপ-ফ্লাইটে সাতটি ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে।
ভিলা পার্কে এমেরির অধীনে দলটি ঘরোয়া মাঠে মাত্র একবারই হারের মুখোমুখি হয়েছে, যা ২০২৫ মৌসুমে অন্য কোনো দলের চেয়ে কম। এই রেকর্ড দলটির ঘরোয়া শক্তি এবং প্রতিপক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণকে তুলে ধরে।
বছরের শুরুর দিকে ভিলার পারফরম্যান্স ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ; পাঁচটি ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট এবং এক গোলের সঙ্গে তারা ২৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সূচনা করেছিল। তবে সেই কঠিন সময়ের পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে এখন শিরোপা দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে।
রজার্সের গোলের পরে ভিলার আক্রমণাত্মক গতি বাড়ে, এবং মিডফিল্ডে তার সৃষ্টিশীলতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুবিধা দেয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিরক্ষা রজার্সের শটকে যথাযথভাবে থামাতে পারেনি, ফলে ভিলার জয় নিশ্চিত হয়।
এমেরি দলের মনোবল বাড়াতে জ্যাকেট ছুঁড়ে উড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, যা ভিলার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কোচের এই অপ্রত্যাশিত কাজটি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভিলার শিরোপা দৌড়ের প্রতি নতুন আলো জ্বালিয়েছে।
ভিলার এই জয় এবং এমেরির উচ্ছ্বাস দলকে শিরোপা দৌড়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, যদিও কোচ এখনও শিরোপা দৌড়ে নিজেদেরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন না। ভবিষ্যতে ভিলার পারফরম্যান্স কীভাবে বিকশিত হবে তা সময়ই বলবে, তবে বর্তমানে দলটি শিরোপা দৌড়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।



