ডিক ভ্যান ডাইক ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে তার শতবর্ষী জন্মদিন উদযাপন করলেন। আমেরিকান টেলিভিশনের অন্যতম আইকন হিসেবে তিনি ১৯৬১ সালে শুরু হওয়া “দ্য ডিক ভ্যান ডাইক শো”‑এর মাধ্যমে ঘরোয়া দর্শকদের হৃদয় জয় করেন। শোটি সিবিএস নেটওয়ার্কে প্রচারিত হয় এবং পরিবার ও কাজের সমন্বয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
ভ্যান ডাইকের ক্যারিয়ার রেডিও ও টেলিভিশনের কমেডি শো দিয়ে শুরু হয়। ১৯৬০ সালে তিনি টনি পুরস্কার জিতেছিলেন “বাই বাই বার্ডি” মিউজিক্যালের জন্য, যা তার মঞ্চ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি ছিল। এই সাফল্য তাকে টেলিভিশন জগতে আরও বড় সুযোগ এনে দেয়।
১৯৬১ সালে তিনি সিবিএসের নতুন সিরিজের প্রধান চরিত্রে নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি রোব পেট্রি নামের স্ক্রিপ্টরকে অভিনয় করেন। এই ভূমিকায় তিনি জনি কারসনের মতো পরিচিত প্রতিযোগীদেরও পরাজিত করে প্রধান ভূমিকা পেয়েছিলেন। শোটি মূলত কার্ল রেইনারের পাইলট স্ক্রিপ্ট “হেড অফ দ্য ফ্যামিলি”‑এর পুনর্গঠন ছিল।
কার্ল রেইনার নিজে শোয়ের পাইলটের জন্যও অভিনয় করেছিলেন, তবে তা অগ্রসর হয়নি। পরে শোটি পুনঃনামকরণ করে “দ্য ডিক ভ্যান ডাইক শো” করা হয় এবং ভ্যান ডাইকের চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়। শোতে মোরি আমস্টারডাম, রোজ মারি এবং ২৪ বছর বয়সী মেরি টাইলার মুরের মতো শিল্পীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম সিজনের ৩৯টি পর্বের পর সিবিএস শোটি বাতিলের প্রান্তে পৌঁছায়। তবে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শেলডন লিওনার্ডের দৃঢ় প্রচেষ্টায় শোটি আরেকটি সুযোগ পায়। দ্বিতীয় সিজনে শোটি টিভি রেটিংয়ের শীর্ষ দশে উঠে আসে, যা মূলত “দ্য বেভারলি হিলবিলিস”‑এর শক্তিশালী লিড‑ইন প্রোগ্রামের কারণে সম্ভব হয়।
শোয়ের উদ্বোধনী ক্রেডিটে ভ্যান ডাইকের একটি স্মরণীয় দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে তিনি একটি ওটোম্যানের ওপর হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। পরের সিজনগুলোতে তিনি এই দৃশ্যটি বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করে, কখনো চতুরভাবে এড়িয়ে যান, কখনো অন্য কোনো বস্তুতে হোঁচট খান। ভ্যান ডাইক উল্লেখ করেছেন যে, রেইনার তার শারীরিক কমেডি প্রেমকে জানতেন এবং সেটি শোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মোট পাঁচ সিজন এবং ১৫টি এমি পুরস্কার জয়ের পর রেইনার চলচ্চিত্র জগতে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে শোটি সমাপ্ত হয়। ভ্যান ডাইক শো শেষ হওয়ার পরও অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে শো শেষ হওয়ায় তিনি নতুন প্রকল্পে মনোনিবেশ করেন।
শোয়ের শেষের পর থেকে ভ্যান ডাইক বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি “১০০ রুলস ফর লিভিং টু ১০০” শিরোনামের একটি বই প্রকাশ করে নিজের শতবর্ষী জীবনের উদযাপন করেন। এই বইটি দীর্ঘায়ু ও সক্রিয় জীবনের জন্য তার ব্যক্তিগত পরামর্শ সমন্বিত।
বছরের শেষের দিকে তিনি টেলিভিশন হোস্ট আল রোকারের সঙ্গে কথোপকথনে হালকা মেজাজে কাজের সন্ধান করছেন বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যটি তার অটল উদ্যম ও শিল্পের প্রতি অবিচল ভালোবাসা প্রকাশ করে।
ডিক ভ্যান ডাইকের ক্যারিয়ার দশক জুড়ে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে বিস্তৃত। তার প্রথম শোটি আজও কমেডি ধারার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
শোয়ের স্মরণীয় মুহূর্ত, বিশেষ করে শারীরিক কমেডি দৃশ্যগুলো, এখনও দর্শকদের হাসি এনে দেয়। ভ্যান ডাইকের স্বাভাবিক হাস্যরস ও মানবিক চরিত্রের উপস্থাপনায় তিনি বহু পরিবারের প্রিয় হয়ে উঠেছেন।
আজ ডিক ভ্যান ডাইকের শতবর্ষী জন্মদিনে তার অবদানকে স্মরণ করে, টেলিভিশন ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে পুনরায় আলোচনায় আনা হয়েছে। তার দীর্ঘায়ু, সৃজনশীলতা ও কাজের প্রতি অটল উৎসাহ ভবিষ্যৎ শিল্পীদের জন্য এক মডেল হিসেবে রয়ে গেছে।



