20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যক্রিসমাসে পারিবারিক টানাপোড়েন কমাতে মানসিক ও পিতামাতার পরামর্শ

ক্রিসমাসে পারিবারিক টানাপোড়েন কমাতে মানসিক ও পিতামাতার পরামর্শ

ক্রিসমাসের ছুটির দিনটি আনন্দের প্রতীক হলেও, প্রত্যাশা ও পারিবারিক রীতিনীতির কারণে খাবার‑সংক্রান্ত বিরোধ, টেলিভিশন রিমোটের জন্য ঝগড়া এবং উপহারের তুলনা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যাগুলো এড়াতে প্রথমে ক্রিসমাসের আদর্শিক চিত্রকে বাস্তবতার কাছাকাছি আনা দরকার।

মনোচিকিৎসক ও লেখক ফিলিপা পেরি উল্লেখ করেন, ক্রিসমাসের জন্য অতিরিক্ত উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে তোলা মানসিক হতাশার মূল কারণ। প্রত্যাশা কমিয়ে বাস্তবিক উপভোগের দিকে মনোযোগ দিলে অপ্রয়োজনীয় দুঃখ কমে যায়। একই সঙ্গে, “সবাইকে দেখা দরকার” এমন অমৌলিক নিয়ম এবং সামাজিক মিডিয়ায় প্রদর্শিত নিখুঁত ক্রিসমাসের ছবি অতিরিক্ত চাপ বাড়ায়।

প্যারেন্টিং কোচ নাতালি কোস্টা, যিনি পূর্বে শিক্ষকতা করেছেন, বলেন, অনলাইন ছবিগুলো বাস্তব জীবনের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। সুখী পারিবারিক ছবির পেছনে প্রায়শই শিশুরা ও বড়দের বড় ধরনের মানসিক অস্থিরতা লুকিয়ে থাকে। এই বাস্তবতা স্বীকার করলে নিজের পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করে অপরাধবোধ কমে। তিনি “যথেষ্ট ভালো” মানসিকতা গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে প্রত্যেকের নিজস্ব সীমা ও সক্ষমতা অনুযায়ী ছুটির দিনকে উপভোগ করা যায়।

উপহার বিনিময় ক্রিসমাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট বাচ্চাদের জন্য সকালে তাড়াতাড়ি জাগা ও উপহারের উত্তেজনা স্বাভাবিক, তবে কখনও কখনও উপহারের মান ও পরিমাণ নিয়ে পারিবারিক প্রতিযোগিতা দেখা দেয়, বিশেষ করে বড় পরিবারে যেখানে আর্থিক ক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। পেরি এই পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতা বা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে পুনর্গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের (দাদা-দাদি, চাচা-চাচি) সন্তানদের অতিরিক্ত উপহার দিতে স্বেচ্ছা হলে তা গ্রহণ করতে এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ না করতে উৎসাহিত করেন।

কোস্টা যোগ করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি সন্তানদের সঙ্গে মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হতে পারে। বড় উপহার ও ভালোবাসার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই, তাই “প্রেম কেনা যায় না” এই ধারণা শিখিয়ে সন্তানদের আর্থিক মূল্যায়নের বদলে আবেগগত মূল্যকে গুরুত্ব দিতে শেখানো যায়। এভাবে উপহারের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে পারিবারিক সংহতি ও নৈতিক শিক্ষায় রূপান্তর করা সম্ভব।

সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব কমাতে, পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা হয় যে, ক্রিসমাসের দিনটি কেবল ছবি তোলার জন্য নয়, বরং একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি, গল্প শেয়ার এবং পারস্পরিক সমর্থনের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। পেরি ও কোস্টা উভয়ই উল্লেখ করেন, প্রত্যেকের নিজস্ব “যথেষ্ট ভালো” মানদণ্ড নির্ধারণ করে, অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও তুলনা থেকে দূরে থাকা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।

সারসংক্ষেপে, ক্রিসমাসে পারিবারিক রাগ এড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে পারে: (১) আদর্শিক ছবির বদলে বাস্তবিক প্রত্যাশা গড়ে তোলা, (২) সামাজিক মিডিয়ার নিখুঁত চিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, (৩) “যথেষ্ট ভালো” মানসিকতা গ্রহণ করা, (৪) উপহারের মানের বদলে পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া, এবং (৫) বয়স্ক সদস্যদের স্বেচ্ছা উপহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ না করা। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ক্রিসমাসের আনন্দ বজায় রেখে মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments