জাপানের নিইগাতা প্রদেশে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুনরায় চালু করার অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা সরকারী স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টোকিও থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তর‑পশ্চিমে সমুদ্রতটে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালনা করে এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
২০১১ সালের মার্চে ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রের গুরুতর ক্ষতি হওয়ার পর জাপান ৫৪টি রিয়্যাক্টর বন্ধ করে দেয়। সেই সময়ে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া সহ সব রিয়্যাক্টর স্থগিত করা হয় এবং দেশটি পারমাণবিক শক্তি থেকে দূরে সরে যায়।
কেন্দ্রটির ক্ষমতা ৭,৯৪০ মেগাওয়াট, যা একক স্থাপনা হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ধারণ করে। এই মাত্রা এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলাদা করে এবং পুনরায় চালু হলে জাপানের বিদ্যুৎ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
বছরের পর বছর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় স্থবির অবস্থায় ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরে আসছে। বর্তমানে জাপানের মোট ৩৩টি কার্যকর রিয়্যাক্টরের মধ্যে ১৪টি পুনরায় চালু হয়েছে।
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু হলে টেপকোর পরিচালনায় প্রথমবারের মতো পুনরারম্ভ করা পারমাণবিক কেন্দ্র হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের শক্তি নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং জাপানের শক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
টেপকোর মুখপাত্র মাসাকাতসু তাকাতা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যতে এমন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটাতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব।
তবে নিইগাতার অনেক বাসিন্দা এখনও ফুকুশিমার স্মৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অতীতের ট্র্যাজেডির প্রভাব তাদের মধ্যে গভীরভাবে বসে আছে, ফলে পারমাণবিক কেন্দ্রের পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি।
কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য টেপকো এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন প্রযুক্তি ও কঠোর পরিদর্শন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছে। তবুও স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা কমাতে অতিরিক্ত স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
আসন্ন জাতীয় ভোটের সঙ্গে জাপানের জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনার আলোচনাও তীব্রতর হয়েছে। পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে গঠন হবে।
দীর্ঘমেয়াদে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু হলে জাপানের বিদ্যুৎ মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়বে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনমতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা অপরিহার্য।



