যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল শহর, যার জনসংখ্যা প্রায় ৪৪,০০০, ভির্জিনিয়া ও টেনেসি দুই রাজ্যের সীমানায় অবস্থিত। শহরের প্রধান সড়কের মধ্য দিয়ে সরাসরি রাজ্য সীমা অতিক্রান্ত হয়, ফলে শহরের এক অংশে টেনেসি, অন্য অংশে ভির্জিনিয়া। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে গর্ভপাতের নিয়ন্ত্রণ ফেডারেল থেকে রাজ্য স্তরে স্থানান্তরিত হয়, ফলে টেনেসিতে গর্ভপাত অবৈধ হয়ে যায় এবং ১২টি রাজ্য প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ব্রিস্টল শহরের একমাত্র গর্ভপাত ক্লিনিক, ব্রিস্টল উইমেনস হেলথ, টেনেসি দিকের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মূল অবস্থান থেকে এক মাইলের কম দূরে ভির্জিনিয়া অংশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই স্থানান্তরের মাধ্যমে ক্লিনিকটি ভির্জিনিয়ার আইনের অধীনে বৈধভাবে সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও একই শহরের টেনেসি অংশে গর্ভপাত এখনও অবৈধ।
ক্লিনিকের সেবা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, রোগীদের জন্য প্রবেশের বাধা কমেনি। স্টেট লাইন অ্যাবরশন অ্যাক্সেস পার্টনারশিপ (SLAAP) নামক সংস্থা, টেনেসি বাসিন্দাদের ভির্জিনিয়ায় গিয়ে ক্লিনিকে সেবা নিতে সহায়তা করে। এই সংস্থা গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা ও সেবার মধ্যে সেতু গড়ে তুলতে কাজ করে, যাতে রোগীরা আইনগত সীমারেখা অতিক্রম করে সেবা পেতে পারে।
SLAAP-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বারবারা শোয়ার্জের মতে, এই পরিস্থিতি “হোয়াক‑এ‑মোল” গেমের মতো, যেখানে একবার কোনো বাধা দূর হলে অন্য কোনো বাধা দ্রুতই উদ্ভব হয়। টেনেসি দিকের বিরোধী গোষ্ঠী ক্লিনিকের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে, ফলে রোগীরা ধারাবাহিকভাবে নতুন পথে সেবা পেতে বাধ্য হয়।
ব্রিস্টল সার্কিট কোর্টে ২২ ডিসেম্বর ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এপ্রিল ২০২৪-এ জমা দেওয়া ভাড়া বাতিলের নোটিশের মামলাটি শোনা হবে। এই নোটিশটি ক্লিনিকের সম্পত্তি মালিক, চেজ ও চ্যাডউইক কিং ভাইদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল। আদালতে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে ছয় বছরের অতিরিক্ত লিজ নবায়নের দাবি করা হবে, যা মঞ্জুর হলে ক্লিনিকের বর্তমান অবস্থান বজায় থাকবে।
যদি বিচারক সম্পত্তি মালিকদের পক্ষে রায় দেন, তবে ক্লিনিককে নতুন কোনো স্থানে স্থানান্তর করতে হবে, যা রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ভ্রমণ সময় ও খরচের সৃষ্টি করবে। ভাড়া বিরোধের এই শেষ না হওয়া লড়াই ক্লিনিকের সেবা ধারাবাহিকতা ও রোগীর নিরাপত্তা উভয়ই প্রভাবিত করতে পারে।
এই ভাড়া বিরোধটি প্রথম নয়। পূর্বে মালিকরা দাবি করেছিল যে ক্লিনিক গর্ভপাত সেবা প্রদান করে তা গোপন করেছে এবং তারা গর্ভপাতের বিরোধী। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি মামলাও দাখিল করা হয়েছিল, তবে বিচারক সেজ জনসন মামলাটি বাতিল করেন।
বিচারকের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল, যদি সম্পত্তি মালিকরা ক্লিনিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যটি সহজ ইন্টারনেট অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করত, তবে তারা গর্ভপাত সেবা প্রদানকারী ক্লিনিকের সত্যতা জানত। এই রায়টি পূর্বের অভিযোগকে অমান্য করে, এবং ক্লিনিকের বৈধতা পুনরায় নিশ্চিত করে।
ক্লিনিকের মালিক ডায়ানা ডেরজিস এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার অস্বীকৃতি মামলার তথ্যগত দিককে আরও জটিল করে তুললেও, ক্লিনিকের কার্যক্রমের উপর সরাসরি প্রভাব না ফেলেছে।
ব্রিস্টল শহরের দুই রাজ্যের বিভাজন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি করে। ভির্জিনিয়া দিকের বাসিন্দারা ক্লিনিকের সেবা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আর টেনেসি দিকের বাসিন্দারা গর্ভপাতের আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমাবদ্ধতা অনুভব করে। এই দ্বৈত বাস্তবতা শহরের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে জটিল করে তুলেছে।
২০২২ সালের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর থেকে, গর্ভপাতের নিয়ন্ত্রণ রাজ্যভিত্তিক হয়ে গিয়েছে, এবং বহু রাজ্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ব্রিস্টলের মতো সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে প্রভাব ফেলছে, যেখানে এক রাজ্যের আইন অন্য রাজ্যের নাগরিকের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ক্লিনিকের বর্তমান আইনি লড়াইয়ের ফলাফল গর্ভপাত সেবা প্রদান ও রোগীর প্রবেশাধিকারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। যদি ক্লিনিককে স্থানান্তর করতে হয়, তবে টেনেসি বাসিন্দাদের জন্য ভির্জিনিয়ায় যাত্রা বাড়বে, যা আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়াবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নীতি ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়ানো যায়।



