22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ও জাপান আজ ইপিএ যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে

বাংলাদেশ ও জাপান আজ ইপিএ যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলঘরে আজ বাংলাদেশ ও জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণার আয়োজন করা হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসাথে এই চুক্তির সূচনা করবেন। লক্ষ্য হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়িয়ে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ত্বরান্বিত করা।

ঘোষণার সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক. বশির উদ্দিন এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তশিমিতসু মোতেগি ফোনে সংযোগ স্থাপন করে ইপিএ চালু করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। এই সংলাপের পর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তির মূল বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে ইপিএ-র পূর্ণাঙ্গ বিবরণসহ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। এতে চুক্তির কাঠামো, পণ্য তালিকা, টারিফ হ্রাসের শর্তাবলী এবং বিনিয়োগের সুবিধা ইত্যাদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

প্রাথমিকভাবে এই চুক্তি এই মাসে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তবে জাপানের জাতীয় সংসদ (ডায়েট) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত স্বাক্ষর জানুয়ারি মাসে সম্পন্ন হতে পারে। ডায়েটের অনুমোদন ছাড়া চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে না, তাই এই সময়সূচি পরিবর্তন স্বাভাবিক।

ইপিএ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক চুক্তি অর্জন করবে। বর্তমানে দেশের একমাত্র পছন্দসই বাণিজ্য চুক্তি হল ভুটানের সঙ্গে ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০২২ জুলাই থেকে কার্যকরী প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ)। পিটিএ সীমিত পণ্য ও শর্তে সীমিত সুবিধা প্রদান করে, ইপিএ সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক কাঠামোকে বিস্তৃত করবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে এক ডজনেরও বেশি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হল লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্যাটেগরি (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় রূপান্তরের পূর্বে পছন্দসই বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। সরকার ২৪ নভেম্বর আগামী বছর থেকে এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসবে, তাই এই সময়সীমার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, যদি রূপান্তরের পর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি না হয়, তবে দেশের রপ্তানি আয় বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোট রপ্তানির ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এই ক্ষতি মূলত এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সুবিধা হারিয়ে যাওয়ার ফলে হবে, যা বর্তমান রপ্তানি কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, সোনার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে স্থানীয় বাজারে এক ভরিতে সোনার দাম ২,১৮,১১৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২,১৭,৩৮১ টাকার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। সোনার দামের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ও মুদ্রাস্ফীতি উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।

ইপিএ চুক্তির স্বাক্ষর ও কার্যকরী হওয়া দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করবে, বিশেষ করে জাপানের উচ্চ মানের প্রযুক্তি পণ্য ও কৃষি পণ্যের প্রবেশে নতুন দিক খুলে দেবে। তবে চুক্তি সম্পন্ন না হলে রপ্তানি হ্রাসের ঝুঁকি ও সোনার দামের অস্থিরতা দুটোই অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে। তাই সরকারকে সময়মতো চুক্তি সম্পন্ন করে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments