22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যগাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ওষুধ ও সরবরাহের তীব্র ঘাটতির সতর্কতা জানায়

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ওষুধ ও সরবরাহের তীব্র ঘাটতির সতর্কতা জানায়

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি আক্রমণ ও অব্যাহত অবরোধের ফলে দুই বছরেরও বেশি সময়ে ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও ল্যাবরেটরি সরবরাহের ঘাটতি তীব্রতর হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এই ঘাটতি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবাকে কঠিন করে তুলছে এবং রোগীর জীবন রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, গাজা অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের ফলে প্রায় সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে; মোট ১২৫টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, যার মধ্যে ৩৪টি হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত। এই ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে, চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা মূল চিকিৎসা সামগ্রী দেশের মধ্যে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অপরিহার্য ওষুধের তালিকায় মোট ৩২১টি পণ্য সম্পূর্ণভাবে শূন্যে পৌঁছেছে, যা ৫২ শতাংশের বেশি ঘাটতি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে, চিকিৎসা সামগ্রীর তালিকায় ৭১০টি পণ্য শূন্যে, অর্থাৎ ৭১ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও রক্তব্যাংক সরবরাহের ঘাটতি ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে জরুরি সেবায় প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি তুলে ধরেছে; ইন্ট্রাভেনাস তরল, ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথা কমানোর ওষুধের সরবরাহে বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ঘাটতি জরুরি ও তীব্র যত্নের সেবাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে প্রায় ২,০০,০০০ রোগী জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে, ১,০০,০০০ রোগী শল্যচিকিৎসা থেকে এবং প্রায় ৭০০ রোগী তীব্র যত্ন ইউনিট থেকে সুবিধা পেতে পারবে না।

অতিরিক্তভাবে, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, হৃদরোগের শল্যচিকিৎসা এবং অস্থি-সংক্রান্ত চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সরবরাহের ঘাটতি উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজায় প্রবেশ করা চিকিৎসা ট্রাকের সংখ্যা মাসিক চাহিদার ৩০ শতাংশের কমে নেমে এসেছে, যা সরবরাহের ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আহ্বান জানিয়ে রেখেছে যে, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের পূর্ণ পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করুক। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, রোগীর জীবন রক্ষার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

গাজা অঞ্চলের স্বাস্থ্য কর্মীরা বর্তমানে সীমিত সরবরাহের মধ্যে রোগীর যত্ন নিতে বাধ্য, যা রোগীর পুনরুদ্ধার সময় বাড়িয়ে দেয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে, শিশু ও বয়স্ক রোগী, যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, তাদের জন্য এই ঘাটতি আরও বিপজ্জনক।

অবস্থা উন্নত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সমর্থন প্রয়োজন, যাতে গাজা অঞ্চলে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী দ্রুত পৌঁছাতে পারে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শেষ করে বলেছে, “অবিলম্বে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া রোগীর জীবন রক্ষা করা কঠিন হবে।” এই আহ্বানটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

পাঠকগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, স্বাস্থ্যসেবা সিস্টেমের সুষ্ঠু কাজের জন্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা অপরিহার্য, এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব হল মানবিক নীতি মেনে চলা। আপনি কি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজা অঞ্চলে এই সংকট মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments