রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বিদেশ নীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ইউরোপীয় দেশ ও ইউক্রেনের যুক্তি যুক্ত করা মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, এই পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জনের সম্ভাবনা বাড়ায় না।
উশাকভ, যিনি রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা, রবিবার রাশিয়ান সংবাদ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইউরোপ ও ইউক্রেনের প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো মূল নথিকে উন্নত করে না এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা প্রণীত প্রস্তাবনা, যা গত মাসে মিডিয়ায় লিক হয়ে প্রকাশ পেয়েছিল, প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি লক্ষ্য করে তৈরি। তবে ইউরোপীয় ও ইউক্রেনীয় নেতারা এই নথি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ এতে রাশিয়ার যুদ্ধকালীন দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত কিয়েভকে অতিরিক্ত সমঝোতা করতে চাপিয়ে দিতে পারে বলে তারা ভয় পোষণ করে।
এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ও ইউক্রেনীয় আলোচনাকারীরা ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের ওপর নিজেদের সংশোধনী যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশিত হয়নি।
উশাকভের মন্তব্যের পরই পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রেভ ফ্লোরিডার মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিমিত্রেভ জানিয়েছেন যে, এই আলোচনাগুলো রবিবার পর্যন্ত চালিয়ে যাবে।
মিয়ামি বৈঠকটি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হয়। এই ধারাবাহিকতা রাশিয়া, ইউরোপ এবং ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই আলোচনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করে বলেছেন যে, ইউক্রেনের দলকে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক দল কাজ শেষ করার পর এখন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের প্রয়োজন।
জেলেনস্কি পূর্বে শনিবার জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে সমর্থন করবে, যদি তা বন্দী বিনিময় বাড়ায় এবং জাতীয় নেতাদের সাক্ষাৎকে সহজ করে। তবে উশাকভের মতে, ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কোনো গম্ভীর আলোচনা এখনো শুরু হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো কাজ চলছে না।
রাশিয়া এই মুহূর্তে জোর দিয়ে বলছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো মূল নথিকে উন্নত করে না এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল পরিকল্পনা যদি অপরিবর্তিত থাকে, তবে তা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে বেশি কার্যকর হতে পারে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতায় নতুন জটিলতা যোগ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে চাওয়া হলেও, ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা এবং রাশিয়ার আপত্তি মেটাতে পারস্পরিক সমঝোতা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, যা ভবিষ্যতে শান্তি প্রক্রিয়ার গতি ধীর করতে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও গোপনীয় আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও নিজেদের প্রস্তাবনা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারে, তবে রাশিয়ার স্পষ্ট বিরোধের মুখে এই প্রস্তাবনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফলের দিকে নিবদ্ধ থাকবে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



