ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দোলরহিম মুসাভি রাবিবার ইসরায়েলকে বিদেশে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সাজানো আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে antisemitism উসকে দেওয়া এবং নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঢাকতে, বিপরীতমুখী অভিবাসন রোধ করতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করতে চায়।
মুসাভি বলেন, অতীতেও ইসরায়েল এমন কৌশল প্রয়োগের উদাহরণ রয়েছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর নাম উল্লেখ না করে সাধারণভাবে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘটিত এক ইহুদি উৎসবে গুলিবিদ্ধ হওয়া হামলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি প্রথমবার নয় যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণকে ইসরায়েলকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিডনি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এই হামলাকে “সন্ত্রাসী সহিংসতা ও গণহত্যা, যা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং অপরাধমূলক” বলে নিন্দা করেন।
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, হোক তা কোনো দেশে হোক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ধরনের কাজের কঠোর নিন্দা জানাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এই ধরনের হামলার পেছনে কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সন্দেহ পোষণ করে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান।
ইসরায়েল সরকার এখনও মুসাভির মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে পূর্বে ইসরায়েলীয় কূটনীতিকরা একই রকম অভিযোগকে “অবৈধ এবং ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশকে এই মন্তব্যের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, মুসাভির বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ, যা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফোরামে দুর্বল করার চেষ্টা করে। তিনি যোগ করেন, এই ধরনের রেটোরিক্স প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের আলোচনায় ইসরায়েলের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
সিডনি হামলার পর, অস্ট্রেলিয়ার সরকার দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলকে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো প্রমাণ না থাকলে তা প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়।
ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি বিবেচনা করলে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বহু বছর ধরে অব্যাহত। ইরান ইসরায়েলকে “অবৈধ রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা নীতি ও কূটনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখে। ইসরায়েলি কূটনীতিকরা ইরানের এই ধরনের রেটোরিক্সকে “অবৈধ প্রচারণা” বলে সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের প্রভাব কমাতে আহ্বান জানান।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্রতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার বিষয়। কিছু দেশ ইসরায়েলকে সমর্থন করে, অন্যদিকে কিছু দেশ ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে আলোচিত হতে পারে।
সিডনি ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ধরনের হামলার মানবিক প্রভাবের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভিকটিমদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, ইরানের মন্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের জেনারেল মুসাভি ইসরায়েলকে বিদেশে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর ফলস‑ফ্ল্যাগ হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উস্কে দিয়েছেন। ইসরায়েল ও ইরানের কূটনৈতিক পারস্পরিক ক্রিয়া, সিডনি হামলার মানবিক পরিণতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা এই বিষয়কে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।



