বহুল আলোচিত বোলিভুড অভিনেতা ভারুণ ধাওন সম্প্রতি ইউটিউবে একটি আলোচনায় নিজের ক্যারিয়ারের নতুন ছবির প্রচারসহ কিছু অস্বস্তিকর ভক্তের আচরণ সম্পর্কে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি তার বাড়িতে এক শক্তিশালী ব্যক্তির স্ত্রী অনধিকৃতভাবে প্রবেশ করে, তাকে অনুসরণ করে এবং তার ব্যক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করেছিল।
এই নারী, যিনি নিজের স্বামীর উচ্চ পদমর্যাদা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও, তার স্বামীর প্রভাবশালী অবস্থান সম্পর্কে জানেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি ভারুণের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগের ভান করছিল, যা তাকে ‘ক্যাটফিশিং’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফলে তিনি ভারুণের বাড়ির অভ্যন্তরীণ তথ্য জানে এবং তার পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা রাখে বলে ধারণা করেছিল।
অবস্থা তীব্র হয়ে ওঠার পর, ভারুণের পরিবার পুলিশকে জানায়। ঘটনাস্থলে মহিলা কনস্টেবলসহ দল উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায় যে, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি একসাথে অন্যের সঙ্গেও উপস্থিত ছিল এবং ঘটনাটি পারিবারিক স্বভাবের হওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এছাড়া, ভারুণ আরও কয়েকটি অনধিকৃত ভক্ত আচরণের কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, এক ভক্ত তাকে জোরপূর্বক চুমু দিয়েছিল এবং তিনি তা অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া, কিছু ভক্ত তার পিঠে হাত রাখে বা নিতম্বে চাপ দেয়, যা তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন।
এই ধরনের অভিজ্ঞতা তাকে নারীদের প্রতি সহানুভূতি বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, নিজের ওপর এমন আচরণ ঘটলে নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, তাই তিনি নিজেকে নারীর অবস্থানে কল্পনা করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, তার জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ভারুণ ধাওন তার নতুন চলচ্চিত্র ‘বেবি জন’ এর প্রচারমাধ্যমে ব্যস্ত। ছবিটি ক্রিসমাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এবং তিনি এই সময়ে প্রচার কার্যক্রমে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রেখেছেন। ছবির নির্মাণে পরিচালক কালিস, প্রযোজক অটলি ও মুরাদ খেতানি যুক্ত আছেন।
‘বেবি জন’ মূলত থালাপতি বিজয়ের ‘থেরি’ ছবির একটি অভিযোজন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে কীর্থি সুরেশ, ওয়ামিকা গাব্বি এবং জ্যাকি শোরফ সহ অন্যান্য পরিচিত মুখ উপস্থিত। ছবির কাহিনী ও চরিত্রের বিশদ এখনও গোপন রাখা হলেও, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের জন্য নতুন রোমাঞ্চের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ফ্যানের অনধিকৃত আচরণ এবং নিরাপত্তা সমস্যার আলোকে ভারুণের এই উন্মুক্তি শিল্প জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের সতর্ক করতে চান এবং একই সঙ্গে তার কাজের প্রতি মনোযোগ বজায় রাখতে চান।
ফ্যানদের সঙ্গে সীমা নির্ধারণের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শিল্পী ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে। আইনগত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হতে পারে।
ভারুণের মতে, তার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিদের জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং ভক্তদের সঙ্গে স্বাভাবিক সীমা বজায় রাখা উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা করেন যে, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য শিল্পী ও ভক্তদের জন্য শিক্ষামূলক হবে।
শেষে, পাঠকদের জন্য একটি স্মরণীয় বার্তা রাখা হয়েছে: কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সীমা অমান্য করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এমন আচরণকে তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করা উচিত। নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলাই সকলের দায়িত্ব।



