20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসিটি গ্রুপের সিটি এডিবল অয়েল রাহিমা ফুডের বোতলিং সুবিধা ব্যবহার করবে

সিটি গ্রুপের সিটি এডিবল অয়েল রাহিমা ফুডের বোতলিং সুবিধা ব্যবহার করবে

সিটি গ্রুপের অধীনস্থ সিটি এডিবল অয়েল, রাহিমা ফুড কর্পোরেশনের অতিরিক্ত বোতলিং লাইনগুলোকে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন মডেলে ব্যবহার করতে যাচ্ছে। দুই সংস্থা পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং এই চুক্তি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রাহিমা ফুডের প্রকাশ্য নোটিফিকেশনে জানানো হয়েছে।

চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর, এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে আরেকটি পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা সম্ভব। নবায়ন শর্তে পারস্পরিক সম্মতি প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

ডিএসইতে লেনদেনের সময় রাহিমা ফুডের শেয়ার মূল্যে ৪.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৪ টাকা পৌঁছায়। এই মূল্য পরিবর্তন বাজারে চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাহিমা ফুড ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৭ সালে ক্ষতি কমাতে নারিকেল তেল উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। এই কৌশলগত পরিবর্তনের পর কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ নতুন কারখানা চালু হয়, এবং মে মাসে কাজু প্রক্রিয়াকরণ লাইনও কার্যকর করা হয়। এই দুইটি উদ্যোগ রাহিমা ফুডের পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করেছে এবং বাজারে তার অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

কোম্পানির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে যে সয়াবিন ও সরিষা তেলের বোতলিং সুবিধা বর্তমানে স্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই সুবিধাগুলো সম্পন্ন হলে রাহিমা ফুডের উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে এবং সিটি এডিবল অয়েলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

ডিএসই তথ্য অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্পনসর-ডিরেক্টররা রাহিমা ফুডের শেয়ারের ৩৫.৯৫ শতাংশ ধারণ করে। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৬.৪২ শতাংশ এবং সাধারণ জনসাধারণ ৫৭.৬৩ শতাংশ শেয়ার রাখে। এই শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো কোম্পানির স্বচ্ছতা ও বাজারে তার স্বীকৃতিকে প্রতিফলিত করে।

সিটি এডিবল অয়েল এই চুক্তির মাধ্যমে নিজের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যয় কমাতে এবং বাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। রাহিমা ফুডের বিদ্যমান লাইনগুলোতে উৎপাদন বাড়িয়ে কোম্পানি দ্রুতই চাহিদা মেটাতে পারবে।

রাহিমা ফুডের জন্যও এই চুক্তি অতিরিক্ত আয় এবং উৎপাদন সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে। অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার না করলে যে সুযোগ হারিয়ে যেত, তা এখন আয় হিসেবে রূপান্তরিত হবে। এছাড়া, সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাহিমা ফুডের বাজারে দৃশ্যমানতা বাড়বে।

সম্পূর্ণ শিল্পের দৃষ্টিতে, এই ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা উৎপাদন খরচ কমিয়ে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। দেশীয় তেল বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমে গেলে ভোক্তাদের জন্য দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।

তবে, চুক্তির সফলতা নির্ভর করবে নতুন বোতলিং সুবিধার সময়মতো সম্পন্ন হওয়া এবং উভয় সংস্থার সমন্বিত পরিচালনা দক্ষতার ওপর। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যা সমাধান না হলে লাভের মার্জিনে প্রভাব পড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, সিটি এডিবল অয়েল এবং রাহিমা ফুডের এই পাঁচ বছরের চুক্তি উভয় সংস্থার জন্য কৌশলগত সুবিধা নিয়ে আসে। শেয়ার মূল্যের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ নবায়ন সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠায়। তবে উৎপাদন সুবিধার সম্পূর্ণ ব্যবহার এবং গুণমান বজায় রাখার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য, যা দীর্ঘমেয়াদে উভয় পক্ষের লাভ নিশ্চিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments