28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক ও অতিরিক্ত সময়ের নতুন নীতি কার্যকর

পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক ও অতিরিক্ত সময়ের নতুন নীতি কার্যকর

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক‑এর সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত নীতি‑২০২৫’ জারি করেছে। এই নীতিমালা অনুসারে, সকল পাবলিক ও প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌলিক, উচ্চশিক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষায় একসাথে একই শর্তে শ্রুতিলেখক ও অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা প্রদান করা হবে। লক্ষ্য হলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, স্থায়ী প্রতিবন্ধী বা দুর্ঘটনা‑জনিত কারণে হাতে লিখতে অক্ষম পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশকে সমান করা।

নতুন নীতির অধীনে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা, যাদের নিজ হাতে লিখতে অক্ষমতা রয়েছে, তারা এই সুবিধা পেতে পারবেন। সুবিধা পেতে হলে, সামাজিক সেবা অধিদপ্তরের ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ অথবা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ইত্যাদি কর্তৃক সর্বোচ্চ ছয় মাসের মেয়াদযুক্ত চিকিৎসা‑প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এই নথিপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রতিবন্ধকতার প্রকৃতি ও মেয়াদ স্পষ্টভাবে যাচাই করা হবে।

শ্রুতিলেখকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে, যাতে লেখকের স্তর পরীক্ষার্থীর চেয়ে নিম্ন স্তরে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষার্থীর জন্য পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, এসএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে অনুমোদন করা হবে। স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের জন্য এইচএসসি স্তরের এবং মাস্টার্স ও বিসিএস পরীক্ষার জন্য স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীকে লেখকের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে, একজন শিক্ষককে শ্রুতিলেখক হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে। নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, লেখকের উচ্চারণ পরিষ্কার, হাতের লেখা সুন্দর এবং দ্রুত লেখার দক্ষতা থাকতে হবে। এই মানদণ্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা এবং লেখকের কাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হবে।

পরীক্ষার তারিখ ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, পরীক্ষার্থীদের অনলাইন বা সরাসরি আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজে নিজে শ্রুতিলেখক মনোনয়ন করতে পারবে; যদি কোনো কারণবশত স্বনির্বাচন ব্যর্থ হয়, তবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় লেখক সরবরাহ করবে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে, শেষ মুহূর্তে কোনো অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি না হয়।

একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইজন শ্রুতিলেখকের অনুমোদন নিতে পারবে এবং পরীক্ষার অন্তত সাত দিন আগে লেখকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে লেখকের কাজের পদ্ধতি, উচ্চারণের গতি এবং লেখার শৈলী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া হবে, যাতে পরীক্ষার দিন কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখোমুখি না হতে হয়।

শ্রুতিনির্ভর পরীক্ষার্থীদের জন্য মূল পরীক্ষার সময়ের এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হবে। অর্থাৎ, প্রতি এক ঘণ্টার পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত পনেরো মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে, এবং এই অতিরিক্ত সময় কখনোই দশ মিনিটের কম হবে না। এই নীতি বিশেষভাবে দীর্ঘ সময়ের প্রশ্নপত্রের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর স্বস্তি বাড়াবে।

প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার হলের নিচতলা অংশে বসার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, পরীক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বিশেষ টেবিল‑চেয়ার বা বেডের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আরামদায়কভাবে প্রশ্নপত্রে মনোযোগ দিতে পারে। এই ব্যবস্থা পরীক্ষার পরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।

প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সাধারণ জ্যামিতি বক্স এবং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, যা পূর্বে নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতিরিক্তভাবে, প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সহায়ক যন্ত্রপাতি অনুমোদিত হবে, যদি তা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন না করে।

এই নীতিমালা বাস্তবায়নের সময়, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস হল—পরীক্ষার তারিখের আগে লেখকের সঙ্গে একাধিকবার অনুশীলন সেশন করা। এতে লেখকের উচ্চারণের গতি, লেখার শৈলী এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে, ফলে পরীক্ষার দিন অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে যাবে। এছাড়া, আবেদন ফর্মে সব প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে আপলোড করা এবং সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করুন, যাতে কোনো দেরি না হয়।

সারসংক্ষেপে, নতুন নীতি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, পরীক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের উচিত এই সুযোগগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং যথাসময়ে আবেদন করে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত করা।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments