গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি রওয়ানা বাজারে প্রথম আলোর অফিস পরিদর্শনের সময় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাদি হত্যার পরের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আক্রমণগুলো জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের আত্মত্যাগের স্মরণে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
সাকি বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শোক ও রাগের সঞ্চার করেছে, তবে একই সঙ্গে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই আবেগকে ব্যবহার করে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আলোর পাশাপাশি ডেইলি স্টার এবং ছায়ানটসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনেও একই রকমের হামলা ঘটেছে।
এই হামলাগুলোকে সাকি ‘ন্যক্কারজনক’ বলে বর্ণনা করেন এবং যুক্তি দেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গৃহীত বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের দাবিগুলো এখনো পূর্ণতা পায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাদি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন; তার হত্যার পেছনে মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করা।
সাকি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদের রক্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দাবি—বিচার, সংস্কার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন—ই আজকের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করেন, ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের সহযোগীরা এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
দেশে অরাজকতা ও নাশকতার পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলমান, এ বিষয়ে সাকি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাদি ছাড়াও জুলাই আন্দোলনের আরও অনেক সংগঠক ও নেতৃত্বকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা ভয়ের মাধ্যমে জনমত দমন করার পুরনো কৌশলকে পুনরায় চালু করার লক্ষণ।
সাময়িকভাবে, এই ভয়কে ভেঙে দিয়ে জনগণ পূর্বে যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, তা আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাকি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সক্রিয় অংশগ্রহণকারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ফ্যাসিস্ট শাসনকে উখাদে ফেলেছিল।
এখন, ঐ ঐক্যের ধারাকে বজায় রেখে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ—রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা এবং সংবিধান সংস্কার—কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সাকি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি, কারণ তারা গণতান্ত্রিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোর দিয়ে বলেন, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আক্রমণ কেবল মিডিয়ার ওপর নয়, পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আক্রমণ। তিনি আহ্বান জানান, সকল রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক সমাজকে একত্রে কাজ করে এই হুমকিকে প্রতিহত করতে হবে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক নীতিমালার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে, সাকি প্রত্যাশা করেন যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাদির হত্যার দায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গৃহীত দাবি—বিচার, সংস্কার ও স্বচ্ছ নির্বাচন—যদি পূরণ না হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক স্বপ্নের পথে বড় বাধা সৃষ্টি হবে।
সারসংক্ষেপে, জোনায়েদ সাকি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাদি হত্যার ক্ষোভকে ব্যবহার করে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর ওপর আক্রমণ চালানোর অভিযোগ তুলে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সকল স্তরের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।



