ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী বাজারে প্রারম্ভিক (ইয়ারলি) আলুর দাম হ্রাস পেয়ে আলু চাষীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। নতুন ফসলের টিউবার দাম পুরনো আলুর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে প্রত্যাশার চেয়ে কম, ফলে উৎপাদন খরচের নিচে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মৌসুমে উৎপাদন খরচ প্রতি কিলোগ্রাম প্রায় ত্রিশ টাকা, যেখানে পাইকারি দামের সীমা বিশ-আট থেকে ত্রিশ টাকার মধ্যে। যদিও খুচরা বাজারে নতুন আলু প্রায় পঁয়ত্রিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে বিক্রেতারা কৃষকদের থেকে ত্রিশ টাকার নিচে দামে ক্রয় করছেন।
ছোট আকারের নতুন আলুর দাম বিশ-পাঁচ থেকে ত্রিশ টাকার মধ্যে, যা পুরনো আলুর বিশ-দুই থেকে পঁচিশ টাকার সমান। বাজারে পুরনো আলুর অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে নতুন আলুর দাম স্থিতিশীল রাখতে পারছে না। মিরপুরের একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, তিনি ত্রিশ টাকার কাছাকাছি দামে আলু কিনে পঁয়ত্রিশ টাকায় বিক্রি করছেন।
বাণিজ্য কর্পোরেশন অব বাংলাদেশে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মধ্য-ডিসেম্বরে নতুন ও পুরনো উভয় আলুর দাম ষাট থেকে সত্তর টাকার মধ্যে ছিল। তবে এই বছর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা চাষীদের আয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
প্রারম্ভিক আলুর চাষের মৌসুম সাধারণত অক্টোবরের প্রথম দিকে শুরু হয়, ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা হয় এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বাজারে পৌঁছায়। এই বছর অনুকূল নয় এমন আবহাওয়া এবং ইনপুট খরচের বৃদ্ধি চাষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
রংপুর সদর উপজেলার একজন চাষী জানান, বপনের সময় ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচুর পরিশ্রম সত্ত্বেও বর্তমান বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম, এমনকি প্রারম্ভিক আলু বিক্রয়েও ক্ষতি হচ্ছে।
তেস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের আরেকজন চাষীও একই সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন; তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ সেচের খরচ ও বাজারে পুরনো আলুর অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে নতুন ফসলের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারছেন না।
বাজারে পুরনো আলুর অতিরিক্ত মজুদ মূলত পূর্ববর্তী মৌসুমের অতিরিক্ত উৎপাদন ও সংরক্ষণে ব্যর্থতার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নতুন ফসলের চাহিদা কমিয়ে দেয় এবং দামকে নিচের স্তরে নিয়ে যায়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি পুরনো আলুর মজুদ দ্রুত হ্রাস না পায়, তবে প্রারম্ভিক আলুর দাম আরও নিচে নেমে যেতে পারে, যা চাষীদের আর্থিক সংকটকে বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে, উৎপাদন খরচের ধারাবাহিক বৃদ্ধি মুনাফার মার্জিনকে সংকুচিত করবে।
অবস্থার উন্নতির জন্য কিছু বিশেষজ্ঞ প্রস্তাব দিচ্ছেন, সরকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে এবং বাজারে পুরনো আলুর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নীতি গঠন করতে হবে। এছাড়া, চাষীদের জন্য সাশ্রয়ী সেচ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, প্রারম্ভিক আলু চাষীরা বর্তমান বাজারে পুরনো আলুর অতিপ্রবাহ ও উচ্চ উৎপাদন খরচের দ্বৈত চাপে ক্ষতির মুখে। দাম স্থিতিশীল না হলে চাষের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যা দেশের আলু সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলবে। তাই, ত্বরিত নীতি হস্তক্ষেপ ও বাজার সমন্বয় প্রয়োজন।



