ময়মনসিংহে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনা এবং একই রাতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের ওপর সমন্বিত আক্রমণ ঘটার পর ধর্ম উপদেষ্টা তৎক্ষণাৎ নিন্দা জানিয়ে আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উপদেষ্টা জানান, তিনি ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে এই নিষ্ঠুর কাজের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং এটিকে নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের হিংসা বা অশান্তি আইনসঙ্গতভাবে সমাধান করা হবে না এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
সেই দিন সকালে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে এই ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি অ্যাডভাইজার গ্রুপে এই বার্তা শেয়ার করে সকল সংশ্লিষ্টকে সতর্ক করেন যে, কোনো ধরনের মোবাইল জাস্টিস অ্যালাউ (মোব জাস্টিস অ্যালাউ) অনুমোদিত হবে না।
মিডিয়া আক্রমণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, সরকার হিসেবে তারা কোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে মানুষকে হত্যা করতে অনুমোদন দেয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কাজকে তারা অন্যায় ও গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য করে এবং আইনের শাস্তি নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেবে।
একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী দায়িত্বের আওতায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা তাদের প্রধান কাজ। যদিও কিছু ঘটনা ঘটছে, তবু তারা যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে ততটুকু বজায় রেখেছে এবং নির্বাচনের সময়সূচি যথাসময়ে নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, বর্তমান পরিবেশে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হবে।
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের ওপর একই রাতে সমন্বিত আক্রমণ ঘটার পর গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ধর্ম উপদেষ্টা স্বীকার করেন, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে সরাসরি তার মন্তব্যে তিনি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে দায়িত্বকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে ছেড়ে দেন।
তিনি যোগ করেন, একাধিক স্থানে একসঙ্গে আক্রমণ হওয়া পূর্বাভাস করা কঠিন, কারণ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য কখনো কখনো সীমিত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি উল্লেখ করেন যে গতকাল তাকে কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে কোনো ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রধান দায়িত্ব পালন করবে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত আক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তথ্য শেয়ারিং উন্নত করা হবে।
ময়মনসিংহে ঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিডিয়া আক্রমণকে একত্রে দেখলে স্পষ্ট হয় যে, ধর্মীয় ও সাংবাদিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বাড়ছে। ধর্ম উপদেষ্টা এ বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে, সরকারকে সকল ধর্মীয় ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা এখন সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, নির্বাচনের সময়ে কোনো ধরনের হিংসা বা অশান্তি না ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর সরকারী দপ্তরগুলো দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শিকারের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ধর্ম উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সকল স্তরে সমন্বিত কাজ করা হবে।



