সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার লক্ষ্যে দেশটি বাংলাদেশ থেকে খেলোয়াড় ও কোচের প্রস্তাব পাঠায়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই অনুরোধকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, প্রস্তাবটি প্রায় দুই মাস আগে তাদের কাছে পৌঁছায় এবং তিনি তা তৎক্ষণাৎ না বলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।
সৌদি আরবের প্রস্তাবে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের ক্রিকেটার এবং কোচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বুলবুল জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো উচিত নয়।
সৌদি আরবের ক্রীড়া নীতি সম্প্রতি গলফ, ফর্মুলা ওয়ান এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাব বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছে। এই ধারায় ক্রিকেটকে নতুন শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) এর সমর্থন নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রিকেটের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় ট্যালেন্টকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে।
বিসিবি প্রধানের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও মানবসম্পদ ইতিমধ্যে স্বতন্ত্রভাবে উন্নয়নের পথে রয়েছে। তাই বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো দেশের স্বার্থের বিরোধী।
সৌদি আরবের প্রস্তাবের প্রত্যাখ্যানের পরও দুই দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। তবে তা এখনো স্পষ্ট নয় যে ভবিষ্যতে কোন ধরণের বিনিময় বা চুক্তি হতে পারে।
বিসিবি উল্লেখ করেছে, দেশের বর্তমান ক্রীড়া নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের অধীনে বৃহৎ আর্থিক ব্যয় দিয়ে গলফ কোর্স, রেস ট্র্যাক এবং ভবিষ্যৎ ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এইসব উদ্যোগের সঙ্গে ক্রিকেটকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিসিবি প্রধানের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং স্বনির্ভরতা বজায় রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার। তাই কোনো বিদেশি দলের সঙ্গে সরাসরি খেলোয়াড় বা কোচের বিনিময় এখনো সম্ভব নয়।
সৌদি আরবের ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করার ইচ্ছা স্পষ্ট। তবে বাংলাদেশে এই ধরনের সহযোগিতা এখনো অনুমোদিত হয়নি।
বিসিবি ভবিষ্যতে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক, তবে তা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বর্তমান সময়ে, দেশের নিজস্ব ট্যালেন্টকে বিকাশের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।
সৌদি আরবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর, উভয় পক্ষের ক্রীড়া সংস্থা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতে কোন নতুন সুযোগ উদ্ভূত হলে তা বিবেচনা করা হবে।



