শুক্রবার রাতের পর, ১৩টি ছোট নৌকা ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ৮০৩ শরণার্থীকে যুক্তরাজ্যের ডোভার বন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ডিসেম্বরের একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড গঠন করে এবং খারাপ আবহাওয়ার পরবর্তী সময়ে কেন্টে পৌঁছানোর ইচ্ছুকদের সঞ্চিত তালিকার ফলে ঘটেছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের শরণার্থী পারাপারের সংখ্যা এখন ৪১,৪৫৫-এ পৌঁছেছে, যা গত বছর ৩৬,৮১৬-কে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও এই অগ্রগতি ২০২২ সালের ৪৫,৭৫৫-এ পৌঁছানো শীর্ষ সংখ্যার নিচে রয়েছে, তবু বছরের প্রথম অর্ধে প্রবণতা দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “ছোট নৌকা পারাপার শোচনীয়, এবং ব্রিটিশ জনগণ আরও নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত সেবা পাওয়ার অধিকারী।” এই মন্তব্যের সঙ্গে সরকারও জানিয়েছে যে, প্রায় ৫০,০০০ অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে ছোট নৌকায় আগমনকারী শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ডোভার বন্দরে বর্ডার ফোর্স ও RNLI (রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফ গার্ড) দলগুলো শরণার্থীদের নিরাপদে অবতরণ করায় সহায়তা করেছে। একই সময়ে, ফ্রান্সের ইংলিশ চ্যানেল ও নর্থ সি মেরিটাইম প্রিফেকচার জানিয়েছে যে, সপ্তাহান্তে ১৫১ জন শরণার্থীকে উদ্ধার করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ক্যালাইসের শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শীতের এই সময়ে ক্যাম্পে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছে, যারা যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আশায় রয়েছে। পূর্বে ২৮ দিন ধারাবাহিকভাবে তীব্র বাতাসের কারণে ছোট নৌকায় পারাপার সম্ভব ছিল না; তবে শনিবারের সমুদ্রের শীতলতা ও শান্তি smugglers-কে বড় দলকে অতিরিক্ত লোডেড ডিঙিতে চড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করেছে।
ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বে সবচেয়ে ব্যস্ত ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এখানে শরণার্থীরা প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ও অশান্ত অঞ্চল থেকে আসেন এবং যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার পর আশ্রয় দাবি করেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই প্রবণতা ইউরোপীয় শরণার্থী নীতি ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কৌশলের ওপর চাপ বাড়াবে। “ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে চুক্তি কার্যকর হলেও, শরণার্থী প্রবাহের ধারাবাহিকতা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে,” এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে এই বিষয়টি আলোচনার সূচিতে থাকতে পারে, যেখানে যুক্তরাজ্যকে তার অভিবাসন নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বলা হতে পারে। একই সঙ্গে, ফ্রান্সের সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা অতিরিক্ত রেসকিউ মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
শরণার্থী সংস্থাগুলো দাবি করে যে, শীতের মৌসুমে ক্যাম্পের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে এবং অধিক সংখ্যক মানুষ নিরাপদে ইউরোপে প্রবেশের জন্য ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা বাড়াতে আহ্বান জানাচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের শেষের দিকে অভিবাসন আইন সংশোধনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে ছোট নৌকায় অযথা পারাপার কমানো যায় এবং বৈধ আশ্রয় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা যায়। এই পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন, যদিও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বরের এই রেকর্ড ভ্রমণ ইংলিশ চ্যানেলের নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত প্রদান করে। শরণার্থী প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ, ফ্রান্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিকট ভবিষ্যতে বহু কূটনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা প্রত্যাশিত।



