গত বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে ঢাকা শহরের সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানটের ছয়তলা ভবনে অজানা ব্যক্তিরা প্রবেশ করে লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ড চালায়। আক্রমণকারীরা প্রায় সব কক্ষ ধ্বংস করে, সম্পদ চুরি করে এবং ভবনের একাধিক অংশে আগুন জ্বালায়।
হামলার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুন নিভিয়ে দেয়। র্যাবও ভবনের চত্বরে উপস্থিত ছিল।
ছায়ানটের সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীরের মতে, প্রথম আলোর কার্যালয় ও ডেইলি স্টার ভবনে আগুন জ্বালানোর মতো ধ্বংসাত্মক কাজ স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের সমতুল্য। তিনি হেনস্তা ও শনিবার রাতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসে আগুন লাগানোর নিন্দা জানিয়েছেন।
সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা, যিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে পরদিন দুপুরে উপস্থিত হন, তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে ভবনের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। একই দিন ছায়ানট ধানমণ্ডি থানা-তে মামলা দায়ের করে।
আক্রমণের পেছনে ‘বাঙালি সংস্কৃতি‑বিরোধী’ ব্যক্তিরা জড়িত থাকার ধারণা সংস্থার মধ্যে রয়েছে, তবে তারা হাদির মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে জানায়। হাদির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই হামলা ঘটেছে, তবে সংস্থা স্পষ্ট করে জানায় যে মৃত্যুর সূত্রে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়নি।
ছায়ানটের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “হাদির মৃত্যুকে উপলক্ষ করে একগুচ্ছ লোক ছায়ানট‑সংস্কৃতি ভবনে জোর করে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায়।” তবে রোববারের বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থা আবার জোর দিয়ে বলেছে, “হাদির মৃত্যুর সূত্রে সংস্কৃতি‑ভবনে আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।”
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, “বাঙালি সংস্কৃতি‑বিরোধী ব্যক্তিরা পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করেছে বলে আমাদের ধারণা।” এই ঘটনার পর ছায়ানট স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী সংগ্রহ ও মেরামত কাজ কঠিন বলে তারা স্বীকার করেছে।
ভবনের ধ্বংসের ফলে দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্বেগ বাড়েছে। ছায়ানটের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, “বহু সংখ্যক শুভেচ্ছা ও সমর্থনের বার্তা পেয়ে আমরা অভিভূত, তবে নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আশাবাদী।”
অধিকাংশ কর্মী ও শিক্ষার্থীকে অস্থায়ীভাবে অন্য স্থানে স্থানান্তর করতে হয়েছে, এবং ভবনের মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। সংস্থা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
হামলার তদন্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা যায়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা ও দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে চলেছেন।
ছায়ানটের ভবন পুনর্নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংস্থা ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে।



