চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি) আম্ম নাসির উদ্দিন আজ (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে নির্বাচনী ভবনে তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এক ঘণ্টার আলোচনা করেন। সভা দুপুর ১২টা থেকে একটায় শেষ হয় এবং এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা অংশ নেন।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ও ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে সিইসি পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনা করেছেন। এই সভা দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্ধারিত, তার পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।
সেই বিকেলে সিইসি আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একত্রিত হবেন। এতে থাকবে গৃহ বিষয়ক সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান স্টাফ অফিসার, পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং সীমান্ত রক্ষা বাংলাদেশ, কোস্ট গার্ড, আন্সার ও ভিডিপি, ডিএজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি এবং আরএবির ডিরেক্টর জেনারেল।
অতিরিক্তভাবে, পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল, এবং কারাগার বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলকেও এই সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সকল সংস্থার প্রতিনিধিরা একত্রে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।
সিইসির এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে এবং নির্বাচন পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে লক্ষ্য রাখে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অশান্তি রোধ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে সিইসি জোর দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর প্রধানের মন্তব্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে সিইসির সংলাপ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আসন্ন নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, সিইসি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বৈঠক ও সমন্বয় সভা চালিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
সিইসির অফিসের মতে, সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মসৃণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈঠকগুলোকে অপরিহার্য বলে গণ্য করা হচ্ছে।
এই বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সিইসি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রস্তুত করবে। রোডম্যাপে ভোটারদের নিরাপত্তা, নির্বাচন কেন্দ্রের সুরক্ষা, এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকির মোকাবিলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সিইসির এই ধারাবাহিক উদ্যোগগুলো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।



