গত বৃহস্পতিবার রাতের বেলা, ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজারে অবস্থিত পত্রিকাদপ্তর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর এক হিংসাত্মক হামলা সংঘটিত হয়। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও, দহশত পার্সোনাল ক্ষতি ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ জানানো হয়েছে।
হামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি তদন্তে তৎপর হয়ে, অন্তত বিশজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলমান।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, যিনি তৃতীয় জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনটি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে, সন্ধ্যায় তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে হামলার সংক্ষিপ্তসার ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে দেন।
সানাউল্লাহ ইসির মতে, হামলাটি মূলত ভ্যান্ডালিজমের একটি উদাহরণ এবং সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশে এর প্রভাব অনস্বীকার্য। তিনি উল্লেখ করেন, “এ ধরনের অপরাধের পেছনে বৃহত্তর জাতীয় আবেগের ব্যবহার করে দুষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী কাজ করে থাকে,” এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও জানান, “এ পর্যন্ত আমরা অন্তত বিশজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছি এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।” তিনি জনসাধারণকে ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাজের যথাযথ শাস্তি পাবে।”
হামলার পাশাপাশি, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কেও ইসি তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানিয়ে দেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জন আটক হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্ত দুইজন এবং পলায়নে সহায়তা করা একজন এখনও গ্রেফতার হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাগুলি অভিযানের গতি বাড়াতে এবং অবশিষ্ট সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বৈঠকে তফসিল-পরবর্তী সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয় এবং নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ করা হয়। সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, “নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সকল দিক থেকে তৎপরতা বজায় রাখতে হবে,” এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
হামলা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্ত এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং অপরাধের শিকারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও শক্তিশালীকরণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের পূর্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তীব্র নজরে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।



