দিল্লি, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ – বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে প্রায় ২০-২৫ জন যুবক একত্রিত হয়ে হাই কমিশনারকে লক্ষ্য করে চিৎকার ও হুমকির দৃশ্য তৈরি করে। ঘটনাটি সন্ধ্যা ৮:৩০ টার কাছাকাছি শুরু হয়ে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে।
ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘটনাটিকে “অযৌক্তিক ও দুঃখজনক” বলে নিন্দা জানিয়ে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করেছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, হাই কমিশনের সীমানার ঠিক বাইরে দুর্বৃত্তদেরকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা কমপ্লেক্সের কর্মীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাই কমিশনের নিরাপত্তা পরিধি ভাঙা বা কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করার কোনো প্রচেষ্টা সেখানে দেখা যায়নি। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, হাই কমিশনকে পূর্বে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি, ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি যথাযথভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদকারীরা মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায় এবং হাই কমিশনারকে ধরার আহ্বান জানায়। তারা হিন্দি ও বাংলা মিশ্রিত স্লোগান উচ্চারণ করে, তবে চিৎকারের পর দ্রুতই সেখান থেকে সরে যায়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দলটি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছিল এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন বা অশান্তি সৃষ্টির লক্ষণ দেখা যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রঞ্জিত জয়সওয়াল ঘটনাটিকে “বিভ্রান্তিকর প্রপাগান্ডা” বলে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, কিছু বাংলাদেশী গণমাধ্যমে অতিরিক্ত sensational তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিশেষ করে ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক দপ্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়ও ভারতের নিরাপত্তা অঙ্গীকার সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই অঙ্গীকারের প্রতি তারা সচেতন এবং তা মেনে চলতে প্রস্তুত। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা উভয় পক্ষের জন্য সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিবেশে এমন ঘটনা দু’দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। তবে বর্তমান সময়ে উভয় সরকারই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, হোস্ট দেশকে বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে, ভারত নিরাপত্তা পরিদর্শন ও অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
দিল্লি হাই কমিশনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। টাস্ক ফোর্সের কাজের মধ্যে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য শেয়ার করে এবং ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, উভয় সরকারই সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক উদ্বেগ দূর করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
ভবিষ্যতে, দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপগুলো কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটতে সহায়তা করবে।



