ফরাসি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ থেকে রূপার পাত্র ও টেবিল পরিষেবার কিছু জিনিসপত্র চুরির অভিযোগে ভবনের তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয় এবং তদন্তের সূচনা হয় চুরি হওয়া সামগ্রী অনলাইন নিলাম সাইটে দেখা যাওয়ায়।
চুরির পরিমাণ আনুমানিক ১৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ ইউরো হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিক সম্পদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রূপার জিনিসপত্রের মূল্যের সমান। এই ধরণের সম্পদ ফরাসি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর।
প্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক মূলত রূপার সামগ্রীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তার কাজের মধ্যে নিয়মিত পরিদর্শন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় মেরামত অন্তর্ভুক্ত।
চুরি হওয়া জিনিসপত্র প্রথমে অনলাইন নিলাম ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত হয়ে নজরে আসে। সাইটগুলোতে রূপার পাত্র ও টেবিলওয়্যার বিক্রির প্রচেষ্টা সনাক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রাসাদের কর্মীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর সেশনের পর তদন্তকারী দল সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে, যিনি পূর্বে রূপার সামগ্রী দেখভাল করতেন। সন্দেহের ভিত্তি ছিল তার কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক এবং চুরির সময়ের অস্বাভাবিক আচরণ।
তদন্তকারীরা জানায়, সন্দেহভাজন অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে বিশেষজ্ঞ একটি কোম্পানির ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন, যিনি টেবিলওয়্যার বিক্রিতে অভিজ্ঞ। এই সংযোগ চুরির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হয়।
সন্দেহভাজনের ব্যক্তিগত লকার, গাড়ি এবং বাড়িতে প্রায় একশোটি জিনিসপত্র পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে রূপার পাত্রের পাশাপাশি তামার পাত্র, সেভ্রেস চীনামাটির বাসন, একটি রেনে লালিক মূর্তি এবং ব্যাকারেট শ্যাম্পেন কুপ অন্তর্ভুক্ত।
উদ্ধার করা সামগ্রীগুলো দ্রুতই প্রাসাদের নিরাপত্তা দলে হস্তান্তর করা হয় এবং মূল অবস্থানে পুনরায় স্থাপন করা হয়। এই পদক্ষেপ চুরি হওয়া ঐতিহাসিক সম্পদের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে।
গত মঙ্গলবারে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়; একজন হলেন তত্ত্বাবধায়ক, আর অন্যজন হলেন চুরি করা জিনিসপত্রের ক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করা ব্যক্তি। উভয়কে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে জব্দকৃত সামগ্রী এবং লেনদেনের রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর সন্দেহভাজনদের চুরি ও জাল বিক্রির অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়। ফরাসি আইন অনুসারে এই ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারিত।
প্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এখন ত্বরান্বিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত সন্দেহভাজন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকাশিত হতে পারে। ফরাসি বিচারিক ব্যবস্থা যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি অগ্রসর করবে এবং চুরি হওয়া ঐতিহ্যবাহী সম্পদের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করবে।



