মার‑এ‑লাগোতে ২০২২ সালে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালিত অভিযান থেকে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল তহবিল থেকে ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি করছেন। তিনি এই অর্থ শীঘ্রই তুলে নেবেন এবং দাতব্য কাজে দান করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের এই দাবি গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যের রকি মাউন্টে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান সমাবেশে জানানো হয়।
২০২২ সালের গ্রীষ্মে এফবিআই মার‑এ‑লাগোতে প্রবেশ করে, যেখানে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও গোপন নথি অনুসন্ধান করা হয়। অভিযানের সময় ঘরবাড়ি, গাড়ি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়, এবং তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন।
এফবিআইয়ের কার্যক্রমে সৃষ্ট সম্পত্তিগত ক্ষতির মোট মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার অনুমান করা হয়। ট্রাম্পের দল এই পরিমাণকে ফেডারেল তহবিল থেকে পুনরুদ্ধার করার দাবি করে এবং আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া এই তহবিল থেকে কোনো অর্থ সরবরাহ করা যায় না।
ট্রাম্পের আইনজীবী দল ২০২২ সালের আগস্টে ফেডারেল তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি এখন পর্যন্ত বিচারাধীন এবং শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যদি আদালত তার পক্ষে রায় দেয়, তবে তিনি তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ গ্রহণের অধিকার পাবেন।
রকি মাউন্টের সমাবেশে ট্রাম্প তার দাবির ওপর মন্তব্য করে বলেন, “এটা খুব অদ্ভুত যে আমি নিজেই মামলা করেছিলাম, আর এখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া এই অর্থ ছাড়া যাবে না।” কিছু সমর্থক তাকে “আইনের অধিকার রক্ষা” হিসেবে প্রশংসা করেন, আর অন্যরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক স্বার্থপরতা হিসেবে সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি এই অর্থ নিজের পকেটের জন্য রাখবেন না। “কয়েকজন আমাকে বলেছেন, এই টাকা আমি নিজের কাছে রাখি, তবে আমি তা করব না,” তিনি বলেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ১০০ কোটি ডলার জনহিতকর কোনো দাতব্য প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। দানকৃত তহবিলের নির্দিষ্ট গন্তব্য ও সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু নেতা তাকে ফেডারেল ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে রক্ষা করার জন্য প্রশংসা করেন, অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন যে, এই দাবি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্টীয় প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাট নেতারা তহবিলের অনুপযুক্ত ব্যবহার এবং ফেডারেল সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে সমালোচনা করেন।
আসন্ন মাসগুলোতে আদালতের রায় এবং ট্রাম্পের দান পরিকল্পনা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। যদি রায় তার পক্ষে আসে, তবে ফেডারেল তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দানকৃত তহবিলের ব্যবহার নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে, রায় যদি বিরোধী হয়, তবে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান হবে এবং বিষয়টি আরেকটি আইনি পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারে।



