এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, মহাদেশের ৪৭টি সদস্য সংস্থার জন্য নতুন একটি নেশনস লিগ প্রতিযোগিতা চালু করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল জাতীয় দলগুলোর প্রতিযোগিতার মানোন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত এএফসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, লিগের সুনির্দিষ্ট সূচনা তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডো ব্যবহার করে প্রতিযোগিতার সময়সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এএফসির জেনারেল সেক্রেটারি উইন্ডসর জনের মতে, এই নেশনস লিগ এএফসির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা সদস্য সংস্থাগুলোর উন্নয়নকে সমর্থন করবে। তিনি আরও বলেন, কাঠামোবদ্ধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের ম্যাচের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন লিগের মাধ্যমে জাতীয় দলগুলোকে যে লজিস্টিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হয়, সেগুলোকে কমিয়ে আনা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যবস্থা করে দলগুলোকে উন্নত প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে।
বর্তমানে এএফসি চার বছর পরপর এশিয়ান কাপের আয়োজন করে থাকে। পরবর্তী এশিয়ান কাপের ২৪টি দলীয় ফাইনাল ম্যাচ জানুয়ারি ২০২৭-এ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে। এই বড় ইভেন্টের পরই নেশনস লিগের সূচনা হলে, দলগুলোকে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ মিলবে।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউইএফএ ২০১৮ সালে নিজস্ব নেশনস লিগ চালু করেছিল, যা সদস্য দেশগুলোর জন্য অর্থবহ ম্যাচের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এএফসি এই মডেলকে অনুসরণ করে এশিয়ার ফুটবল পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।
নতুন লিগের মাধ্যমে এএফসির সদস্য দেশগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের প্রতিযোগিতার মঞ্চে উপস্থিত করা সম্ভব হবে, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নত করবে এবং দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় ফুটবল অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
বাণিজ্যিক দিক থেকে, নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগ টেলিভিশন অধিকার, স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপন আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এএফসি এই আয়কে সদস্য সংস্থাগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে পুনঃবিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
সদস্য দেশগুলোর ফেডারেশনগুলোও এই নতুন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা দেখছে। তারা আশা করে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে স্থানীয় কোচিং স্টাফের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি হবে।
এএফসির এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে লিগের কাঠামো, ম্যাচের ফরম্যাট এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও সূচনা তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে শীঘ্রই একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, এএফসির নেশনস লিগের সূচনা এশিয়ার ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যেখানে জাতীয় দলগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন এশিয়ার ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।



