20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবন্ডি বিচ হামলার শিকারের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা অনুষ্ঠিত

বন্ডি বিচ হামলার শিকারের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে গত সপ্তাহে সংঘটিত গুলিবর্ষণ ঘটনার এক সপ্তাহ পর, রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্মরণ দিবসের অংশ হিসেবে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। দুইজন গুলিবিদ্যা চালিয়ে হানুকা উৎসবের উদযাপনকালে উপস্থিত মানুষদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৫ জনের প্রাণ ত্যাগ করে, যার মধ্যে ১০ বছর বয়সী মাটিল্ডা, ব্রিটেনের জন্মগ্রহণকারী একজন রাব্বি এবং হোলোকাস্ট বেঁচে থাকা এক বয়স্ক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত।

স্মরণসভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অ্যান্থনি আলবানিজে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা তাকে তালি না দিয়ে নিন্দা জানায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে বাড়তে থাকা অ্যান্টি-সেমিটিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিমালা নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ পায়।

সন্ধ্যা ১৮:৪৭ (গ্রীনউইচ মান সময়ে ০৭:৪৭) ঠিক এক সপ্তাহের পার্থক্যে নীরবতা বজায় রাখা হয়। এই সময়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রতীরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুরক্ষাবাহিনীর উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সশস্ত্র রাইয়ট স্কোয়াডের সদস্যরা মুখোশ পরিহিত অবস্থায় নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে রাখে, আর বন্ডি বিচের সমুদ্রের দিকে একটি পুলিশ পেট্রল বোট দৃশ্যমান ছিল।

অনেক অংশগ্রহণকারী কিপ্পা (ইহুদি ধর্মীয় টুপি) পরিধান করে অথবা অস্ট্রেলিয়ার পতাকায় সজ্জিত হয়ে সমাবেশে অংশ নেয়। নীরবতার পর, বিভিন্ন বক্তা মঞ্চে উঠে শোক প্রকাশ করেন এবং শিকারের স্মৃতিকে সম্মান জানান। মাটিল্ডার স্মৃতিতে মধু-মধুর মতো বীজের আকারের বেলুনগুলো বাতাসে ভাসতে থাকে, যা তার প্রিয় ডাকনাম “মাটিল্ডা বি” থেকে নেওয়া।

অনুষ্ঠানের পরের অংশে, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গানের “ওয়াল্টজিং মাটিল্ডা” গাওয়া হয়, যা শিকারের ক্ষুদ্রতম বয়সী শিশুর নামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এরপর ১৪ বছর বয়সী ছায়া নামের এক কিশোরীকে স্মরণে গাওয়া হয়, যিনি অন্যের সন্তানদের রক্ষা করার জন্য গুলিবিদ্যার লাইনে নিজেকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিলেন। গুলিতে তার পা আঘাত পায়, তবে তিনি ক্রচ ব্যবহার করে মঞ্চে উঠে শোকের কথা প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিতদেরকে অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশের সমাপ্তিতে মেনোরাহ (হানুকা শিখা) জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। গত সপ্তাহে হানুকা উদযাপনের সময় এই শিখা জ্বালানো সম্ভব হয়নি, তবে আজকের স্মরণসভায় তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বন্ডি বিচের এই স্মরণসভা শুধুমাত্র নিউ সাউথ ওয়েলসের সীমা অতিক্রম করে, সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় একত্রিত হয়ে “অন্ধকারের ওপর আলো”র প্রতীকী বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন শহরে ছোট ছোট সমাবেশে মানুষজন মোমবাতি জ্বালিয়ে, শিকারের স্মৃতিকে সম্মান জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা না ঘটার জন্য আহ্বান জানায়।

স্মরণসভায় উপস্থিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অস্বাভাবিক দৃশ্য ছিল। সশস্ত্র রাইয়ট স্কোয়াডের মুখোশধারী সদস্যদের পাশাপাশি সমুদ্রের দিকে একটি পুলিশ পেট্রল বোটের উপস্থিতি, ঘটনার তীব্রতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্পষ্ট করে।

এই স্মরণসভা এবং জাতীয় শোকের দিনটি, সরকার ও সমাজের মধ্যে নিরাপত্তা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কী ধরনের আইনগত ও নীতি পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে সরকারী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

স্মরণসভার শেষে, উপস্থিতরা একত্রে মেনোরাহের আলোতে শোকের শেষ নিঃশ্বাস টেনে নেয় এবং একে অপরকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই অনুষ্ঠানটি শিকারের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য এক ধরনের মানসিক সমর্থন এবং সমাজের সংহতি বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments