মরক্কো ২০২৪ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের উদ্বোধনী ম্যাচে রবিবার রাত ১৯:০০ GMT-এ রাবাতের নতুন ৬৯,০০০ সিটের প্রিন্স মুলে আব্দেল্লাহ স্টেডিয়ামে কমোরোসের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। হোস্ট দেশ হিসেবে এই ম্যাচটি দেশের ভক্তদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ফাইনাল ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকার শীর্ষে ১১তম স্থান অধিকার করা মরক্কো, বিশ্ব রেকর্ড ১৮টি ধারাবাহিক জয় নিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই সাফল্যগুলো দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টুর্নামেন্টে প্রবেশ করতে সহায়তা করছে।
দলীয় কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে বলেছিলেন, “এই এএফসিএনটি আমাদের ঘরে জিততে হবে, ভক্তদের সামনে আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট।” তিনি দেশের প্রত্যাশা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে দলের মনোভাবকে ইতিবাচক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রেগ্রাগুই আরও যোগ করেন, “যদি জয় না হয় তবে তা ব্যর্থতা হবে।” তিনি দলের জন্য উচ্চমানের পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যা দেশের গর্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আফ্রিকার সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা অর্জনকারী ডানফুট পার্স সেন্ট-জার্মেইন-এর অধিগৃহীত অধিনায়ক আচারফ হাকিমি, নভেম্বরের শুরুর দিকে পা মোচড়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে মাঠে ফিরে আসছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি ভালো বোধ করছি এবং দলের জন্য প্রস্তুত।” হাকিমি দলের জয়কে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
কোচ রেগ্রাগুই স্বীকার করেছেন, হাকিমি প্রথম ম্যাচে না খেললেও পরের গ্রুপ ম্যাচগুলো—মালি ও জাম্বিয়া—এ তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। হাকিমি নিজে বলেছিলেন, “যদি এক মিনিটই খেলি এবং দল জিতে, তবেই আমি সন্তুষ্ট।” তার এই মনোভাব দলীয় সংহতি ও লক্ষ্যকে তুলে ধরে।
মরক্কোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, মোহাম্মদ সালাহের নেতৃত্বে মিশর এবং ভিক্টর ওসিমেনের অধিনায়কত্বে নাইজেরিয়া। এই দলগুলো টুর্নামেন্টে মরক্কোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
টুর্নামেন্টটি নতুন বছরের দিকে অগ্রসর হবে, এবং চূড়ান্ত ফাইনাল ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচি দলকে ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা করতে বাধ্য করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো ফুটবলের উজ্জ্বল মুহূর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউ-২০ বিশ্বকাপের জয় এবং দুবাইয়ের ফিফা আরব কাপ ফাইনালে জর্ডানের বিরুদ্ধে বিজয়, যা রাস্তায় ভক্তদের উল্লাসে পরিণত হয়েছে। এই সাফল্যগুলো দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাবাতের প্রিন্স মুলে আব্দেল্লাহ স্টেডিয়াম, যা ৬৯,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন, মরক্কোর আধুনিক অবকাঠামোর প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে দেশের চিত্র তুলে ধরবে। এই স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের সময় বিশ্বমানের সুবিধা প্রদান করবে।
দেশীয় ভক্তদের উচ্চ প্রত্যাশা এবং জাতীয় গর্বের সঙ্গে মরক্কো দল প্রথম এএফসিএন শিরোপা ১৯৭৬ সালের পর পুনরায় জেতার লক্ষ্যে অগ্রসর। দলটি জানে, ঘরে ঘরে জয় অর্জন করা শুধুমাত্র ক্রীড়া সাফল্য নয়, বরং দেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হবে।
মরক্কো এই টুর্নামেন্টকে শুধুমাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ানোর একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। দল, কোচ এবং খেলোয়াড়রা একত্রে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত।



