20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাব্যক্তি করদাতার রিটার্ন জমা শেষের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর বাড়ানো, এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য

ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন জমা শেষের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর বাড়ানো, এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য

ঢাকা—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট (ডিআরইউ) তে অনুষ্ঠিত রিটার্ন দাখিল সহায়তা বুথ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন জমা শেষের তারিখ বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার রেজিস্টারেশন সংখ্যা ও জমা হওয়া রিটার্নের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪.২ মিলিয়ন ব্যক্তি করদাতা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে ২.৬ মিলিয়নের বেশি ইতিমধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছে। এর ফলে প্রায় ১.৫ থেকে ১.৬ মিলিয়ন করদাতা এখনও ফাইলিং সম্পন্ন করেনি, যা এক সপ্তাহের মধ্যে পূরণ করা কঠিন হতে পারে।

চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে রিটার্ন দাখিলের চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, সরকার পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত সময় প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ডিআরইউ তে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর জন্য উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে সরাসরি অনুরোধ জানানো হয়। বুথের মাধ্যমে করদাতাদের ফাইলিং প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা হয় এবং একই সঙ্গে সরকারী নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নভেম্বরের শেষের দিকে এনবিআর ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে। পূর্বে সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল, যা করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য কোনো নথি আপলোডের প্রয়োজন নেই। করদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেল, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অথবা যেকোনো ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে কর পরিশোধ করে সঙ্গে সঙ্গে ই-রিটার্ন দাখিলের স্বয়ংক্রিয় স্বীকৃতি পত্র পেতে পারেন।

চেয়ারম্যানের মতে, আগামী আর্থিক বছর থেকে ব্যাংকগুলোর সরাসরি সঞ্চয় তথ্য এনবিআরের সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এতে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, ডিভিডেন্ড বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত হবে, যা করদাতাদের অতিরিক্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহের ঝামেলা কমাবে।

বিশেষ করে ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে, এনবিআর সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিভিডেন্ড বেস লিস্ট) এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কোম্পানিগুলো থেকে সরাসরি ডিভিডেন্ড সার্টিফিকেট সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করবে। ফলে করদাতারা শেয়ার থেকে প্রাপ্ত আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করতে পারবেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, যদি কোনো করদাতার ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) অথবা সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে সেই অ্যাকাউন্টের সুদ ও ডিভিডেন্ডের তথ্যও একই সিস্টেমের মাধ্যমে রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং কর সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা ব্যবসা ও আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজ হলে করদাতাদের সম্মতি বাড়বে, ফলে রাজস্ব সংগ্রহে স্থিতিশীলতা আসবে। একই সঙ্গে, স্বয়ংক্রিয় ডেটা সংযোগের মাধ্যমে কর ফাঁক কমে আর্থিক শাসনের মানোন্নয়ন হবে।

তবে, রেজিস্ট্রেশন ও দাখিলের গতি বজায় রাখতে করদাতাদের সচেতনতা ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সরকার যদি সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা করদাতাদের অতিরিক্ত সময় প্রদান করে ফাইলিং সম্পন্ন করার সুযোগ দেবে, তবে একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার দ্রুততা বজায় রাখার জন্য প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments